পড়ুয়াদের বইমুখী করতে রাজ্য সরকারের বড় পদক্ষেপ, সব স্কুলে বাধ্যতামূলক লাইব্রেরি ও রিডিং কর্নার
August 3, 20267:00 pm

স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস দিন দিন কমছে। শিক্ষার্থীদের আবার বইমুখী করে তুলতে এবার বিশেষ উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন থেকে জারি করা একটি নতুন বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলে লাইব্রেরি এবং ‘রিডিং কর্নার’ গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকার প্রধান বিষয়সমূহ:
- লাইব্রেরি ও রিডিং কর্নার স্থাপন: যে সমস্ত স্কুলে এখনও কোনো লাইব্রেরি নেই, সেখানে দ্রুত লাইব্রেরি তৈরি করতে হবে। এছাড়া, পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে শ্রেণিকক্ষে বা স্কুল প্রাঙ্গণে তৈরি করতে হবে বিশেষ ‘রিডিং কর্নার’।
- বইয়ের ধরন: শিক্ষার্থীদের বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন ধরণের গল্পের বই, শিশু সাহিত্য, রেফারেন্স ও সহায়িকা বই, দ্বিভাষিক বই, মানচিত্র, বিশ্বকোষ (Encyclopedia), বিজ্ঞান ও গণিত বিষয়ক বই, খ্যাতনামা ব্যক্তিদের জীবনী, ইতিহাস, পরিবেশ ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত শিক্ষামূলক বই রাখতে হবে।
- অর্থসংস্থান ও বই সংগ্রহ: এই উদ্যোগের জন্য আলাদা কোনো সরকারি বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়নি। বদলে স্কুলের নিজস্ব ফান্ড (গ্রান্ট), শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্কুলে ‘বুক ডোনেশন ড্রাইভ’ আয়োজন করার কথা বলা হয়েছে।
বই পড়ার গুরুত্ব ও অন্যান্য কার্যক্রম:
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-র সাথে সঙ্গতি রেখে জানানো হয়েছে যে, শিশুদের মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি, শব্দভাণ্ডার এবং ভাষার দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বই পড়ার বিকল্প নেই।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়ার আগ্রহ তৈরি করতে স্কুলে নিয়মিত:
- রিডিং আওয়ার (পড়ার সময়)
- গল্প বলা ও কবিতা আবৃত্তি
- বই নিয়ে আলোচনা ও প্রতিযোগিতা
- দেয়াল পত্রিকা (Wall Magazine) তৈরি ও রোল-প্লে-এর মতো নানা শিক্ষামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করতে হবে।
পাশাপাশি, লাইব্রেরি থেকে বই দেওয়া-নেওয়ার সঠিক হিসাব রাখা এবং শ্রেণিকক্ষে পড়া বই নিয়ে আলোচনার জন্য শিক্ষকদেরও বিশেষ উৎসাহ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এই নির্দেশিকায়।