রেকর্ড রুমে সাপের আতঙ্ক! ৩১ বছরের পুরনো ফাইল নিখোঁজ, আটকে যৌনকর্মীর ক্ষতিপূরণ

কলকাতা হাইকোর্টের রেকর্ড রুমে সাপের উপদ্রবের কারণে চরম জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিষধর সাপের ভয়ে কর্মীরা সেখানে ঢুকে কাজ করতে না পারায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না প্রায় ৩১ বছরের পুরোনো এক সংবেদনশীল মামলার মূল নথি। আর এই ফাইল উধাও হওয়ার কারণে আটকে গেছে আদালতে গচ্ছিত ক্ষতিপূরণের সুনির্দিষ্ট হিসাব।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
মামলাটি ১৯৯৫ সালের। তৎকালীন ভবানীপুর থানার হেফাজতে সুভাষ দাস নামে এক ব্যক্তির রহস্যমৃত্যু হয়। পরবর্তীকালে আলিপুর জেলা বিচারকের অধীনে হওয়া বিচারবিভাগীয় তদন্তে জানা যায়, মৃত সুভাষ দাস দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে পুতুল দাস নামের এক যৌনকর্মীর ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।
তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল:
- রাজ্য কোষাগার নয়, বরং দায়ী পুলিশকর্মীদের বেতন কেটে ক্ষতিপূরণের অর্থ তুলতে হবে।
- সংশ্লিষ্ট যৌনকর্মী পুতুল দাসকে ২০ হাজার টাকা এবং মৃতের পরিবারকে ৮০ হাজার টাকা দিতে হবে।
- হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এই টাকা প্রতি ৬ মাস অন্তর রিনিউ (নবায়ন) করে গচ্ছিত রাখবেন।
বর্তমান পরিস্থিতি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সেই সুদে-আসলে জমে থাকা অর্থের সঠিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। মামলাকারীদের দাবি, রেকর্ড রুম সাপের আস্তানা হয়ে ওঠায় নথি উদ্ধার করা যাচ্ছে না, ফলে পুরো প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি উঠলে আদালত জানায়:
- ক্ষতিপূরণের টাকা ফেরতের জন্য নতুন করে আবেদন করা যাবে।
- তবে মূল নথি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত জমানো টাকার সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
রেকর্ড রুম থেকে পুরোনো ফাইল উদ্ধার ও অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব স্পষ্ট হওয়ার পরেই হাইকোর্ট পরবর্তী নির্দেশ দেবে বলে জানিয়েছে।