কৌশিকী অমাবস্যা ২০২৬: জানুন শুভ তিথি, সময় নির্ঘণ্ট ও এই পবিত্র রাতের পৌরাণিক ইতিহাস

সনাতন ধর্ম ও তন্ত্রশাস্ত্রে কৌশিকী অমাবস্যার গুরুত্ব অপরিসীম। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, এই শুভ তিথিতে আদ্যাশক্তি মহামায়ার আরাধনা করলে জীবন থেকে সমস্ত নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং বহু মানুষের ভাগ্যোন্নতি ঘটে। বীরভূমের তারাপীঠ সহ দেশের সমস্ত কালীপীঠগুলিতে এই দিনে বিশেষ জাঁকজমকের সঙ্গে দেবী তারার পুজো অনুষ্ঠিত হয়। সাধক বামাক্ষ্যাপার সিদ্ধিলাভের স্মৃতিবিজড়িত এই দিনটি ভাদ্র মাসের অমাবস্যা তিথিতে পালিত হয়।
কৌশিকী অমাবস্যা ২০২৬: সময় ও তিথি নির্ঘণ্ট
এই বছর (২০২৬) ভাদ্র মাসের কৌশিকী অমাবস্যা পড়েছে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার।
- অমাবস্যা তিথি শুরু: ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ / ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) বেলা ১০:১১ মিনিট থেকে।
- অমাবস্যা তিথি সমাপ্তি: ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ / ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) সকাল ৮:৫০ মিনিট পর্যন্ত।
পৌরাণিক ইতিহাস ও দেবী কৌশিকীর রূপকথা
শাস্ত্রমতে, দেবী কৌশিকী হলেন আদ্যাশক্তি মহামায়ারই এক বিশেষ রূপ। দৈত্যরাজ শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বর দেওয়া হয়েছিল যে, কোনো অযোনিসম্ভূতা নারী (যার জন্ম মাতৃগর্ভে হয়নি) ছাড়া কেউ তাঁদের বধ করতে পারবে না।
কথিত আছে, মহাদেব কৌতুক করে দেবী পার্বতীকে ‘কালিকা’ (কালো) বলে সম্বোধন করায় দেবী অভিমান করে মানস সরোবরের তীরে কঠোর তপস্যা শুরু করেন। তপস্যা শেষে সরোবরের জলে স্নান করার পর দেবীর শরীরের সমস্ত কৃষ্ণবর্ণ কোষ ঝরে যায় এবং তিনি গৌরবর্ণা হয়ে ওঠেন। দেবীর শরীর থেকে ঝরে পড়া সেই কোষ থেকেই সৃষ্টি হয় এক অপূর্ব সুন্দরী কৃষ্ণবর্ণা দেবীর। যেহেতু কোষ থেকে তাঁর উৎপত্তি, তাই তাঁর নাম হয় কৌশিকী।
অযোনিসম্ভূতা দেবী কৌশিকী এই ভাদ্র অমাবস্যা তিথিতেই অত্যাচারী শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করেছিলেন।
এই রাতের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব
তন্ত্রমতে এই বিশেষ রাতকে ‘তারা রাত্রি’ বলা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই রাতে সাধনা করলে সাধকের কূলকুণ্ডলিনী জাগ্রত হয় এবং মা তারা ও মহামায়ার বিশেষ কৃপা লাভ করা সম্ভব হয়।