“১২ বছরের মেয়েদেরও ছাড়েনি পুরুষ পুলিশ!”— যন্তর মন্তরের লাঠিচার্জ নিয়ে অভিজিতের জোরালো তোপ

দিল্লি: দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৬ দিনের ঐতিহাসিক নিট (NEET) আন্দোলন এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘটনার পর এবার মুখ খুললেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সম্প্রতি ‘টিভি৯ ভারতবর্ষ মারাঠি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুলিশি নির্মমতা ও আন্দোলনের নেপথ্য কাহিনী নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি।
“পার্টি নাম দিতাম না জানলে…”
সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ অকপটে স্বীকার করেন যে, তাঁদের প্রতিবাদ যে এত বিশাল আকার নেবে তা তিনি প্রথমে বুঝতে পারেননি। তিনি বলেন, “আন্দোলনটা এত বড় হবে জানলে নামের সঙ্গে ‘পার্টি’ শব্দটাই রাখতাম না।” তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক দলগুলির ওপর থেকে ভরসা উঠে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন থেকে ইভিএম— সবকিছুর নিরপেক্ষতা যেখানে প্রশ্নের মুখে, সেখানে মানুষের আস্থা অর্জন করাই তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি নিশ্চিত করেন, CJP ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলে রূপ নেবে না বা রাজনৈতিক জোটে যাবে না; স্বাধীন থেকেই গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করবে।
দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে নৃশংসতার গুরুতর অভিযোগ
গত ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ অভিযান ও যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের কথা তুলে ধরে দিল্লি পুলিশের কঠোর সমালোচনা করেন অভিজিৎ। বিজেপি এই আন্দোলনকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে দাবি করে তিনি বলেন, “পুলিশ ছাত্রদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে, মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। এমনকি পুরুষ পুলিশ কর্মীরা ১২ বছরের কম বয়সী মেয়েদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে, তাদের জামাকাপড় ছিঁড়ে দিয়ে বেদম মারধর করেছে।”
ছাত্রশক্তির জয় ও মন্ত্রীর পদত্যাগ
তবে এই চরম নিপীড়ন সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা পিছু হঠেনি। পুলিশের এই অমানবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিম তৈরি ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের প্রতিবাদ জারি রাখে। অবশেষ শিক্ষার্থীদের এই অদম্য লড়াইয়ের কাছে নতিস্বীকার করে ২৫ জুলাই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন শিক্ষামন্ত্রী।