সৈনিক স্কুলে আরএসএস-এর ছায়া? রাহুল গান্ধীর অভিযোগে তোলপাড় সংসদীয় কমিটি, তলব প্রমাণ!

সৈনিক স্কুলে আরএসএস-এর ছায়া? রাহুল গান্ধীর অভিযোগে তোলপাড় সংসদীয় কমিটি, তলব প্রমাণ!

সামরিক বিদ্যালয় বা ‘সৈনিক স্কুল’ গুলিতে আরএসএস (RSS)-এর প্রভাব ও হস্তক্ষেপ বাড়ছে— প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় অ্যাড-হক কমিটির বৈঠকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়ালো। রাহুলের এই দাবির পর কমিটির বৈঠকে শাসক ও বিরোধী দলের সাংসদদের মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কি ও শোরগোল শুরু হয়।

বৈঠকে ঠিক কী ঘটেছিল?

সূত্রের খবর, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে রাহুল গান্ধী অভিযোগ তোলেন যে, দেশের সৈনিক স্কুলগুলি ধীরে ধীরে আরএসএস-এর নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে এবং সেখানে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।

রাহুলের এই মন্তব্যের সাথে সাথেই তীব্র প্রতিবাদ জানান বিজেপি সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ঠিক কী তথ্যের ভিত্তিতে এই ধরনের ভিত্তিহীন মন্তব্য করা হচ্ছে?” এরপরই দু’পক্ষের মধ্যে তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়।

সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যানের বড় নির্দেশ

পরিস্থিতি সামাল দিতে কমিটির চেয়ারম্যান রাধামোহন সিং হস্তক্ষেপ করেন। তিনি রাহুল গান্ধীকে তাঁর এই দাবির সমর্থনে যাবতীয় নথি ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। চেয়ারম্যান জানান, রাহুল গান্ধী প্রমাণ জমা দিলে তা স্পষ্টীকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

এর পাশাপাশি, পাব্লিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলে যে সমস্ত বেসরকারি সংস্থাকে সৈনিক স্কুল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সেগুলির ওপর বিশেষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্পিকারের হস্তক্ষেপে অবশেষে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কী? এটি ভারতের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় প্যানেল। এতে মোট ৩১ জন সদস্য থাকেন (লোকসভার ২১ জন এবং রাজ্যসভার ১০ জন)। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নীতি, বাজেট, সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি এবং সীমান্তবর্তী পরিকাঠামো নজরদারি করাই এই কমিটির মূল কাজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *