‘ওটা ছাত্র আন্দোলন ছিলই না!’— দেশ ছাড়ার ২ বছর পর দিল্লি থেকে বিস্ফোরক শেখ হাসিনা

গণবিক্ষোভের মুখে পড়ে ক্ষমতা হারানোর ঠিক দু’বছর পর অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার দিল্লির ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব’-এ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল ভাষণে তিনি দাবি করেছেন— ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সেই ঘটনাবলী মোটেও কোনো সাধারণ বা শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না।
ভাষণের শুরুতেই ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের নির্মম স্মৃতি ও বিগত দু’বছরের দেশের পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। অশ্রুসজল কণ্ঠে হাসিনা বলেন, “আমি কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসেবে কথা বলছি। আমাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হলেও আমি কখনো আমার দেশের মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হইনি।”
প্রধান অভিযোগ ও বিস্ফোরক মন্তব্য:
- আন্দোলনের নেপথ্যে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী: শেখ হাসিনা দাবি করেন, তাঁর সরকার শুরু থেকেই আইনি পথ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চেয়েছিল। কিন্তু সংস্কারের অজুহাতে একটি সংগঠিত ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের আবেগকে সহিংস রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করেছিল।
- ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে তোপ: বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসনকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জুলাইয়ের সত্য গোপন করার চেষ্টা করছে এবং আগের সব নিরপেক্ষ তদন্ত বন্ধ করে দিয়েছে।
- অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কড়া সমালোচনা: হাসিনার দাবি, তাঁর সরকারের পতনের পর দেশ চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। বর্তমানে ব্যাংক থেকে প্রতি মাসে ৭০০-৯০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে দেশ চালাতে হচ্ছে, শিল্প উৎপাদন সংকুচিত হয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
নিজের বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশে ফেরার দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা জানান, ভয় দেখিয়ে তাঁকে দূরে রাখা যাবে না। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য কোনো ক্ষমতার মোহ নয়, বরং দেশের উন্নয়ন, সুশাসন ও শান্তি পুনরুদ্ধার করা।