‘জঙ্গল রাজত্ব চলছে!’ কালীঘাটে তৃণমূলের দফতরে দুষ্কৃতী তাণ্ডবে গর্জে উঠলেন নেত্রী

ভরসন্ধ্যায় শহর কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসে চলল তাণ্ডব ও লুটপাট। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রড, লাঠি ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রায় ১৫০ জনের একটি সশস্ত্র দুষ্কৃতী দল আচমকাই হামলা চালায় কার্যালয়টিতে। ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয় দরজা, চেয়ার-টেবিল, টিভি থেকে শুরু করে সিসিটিভি ক্যামেরাও। শুধু ভাঙচুরই নয়, বেশ কিছু প্রয়োজনীয় ফাইলপত্রও লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি পদ্ম শিবিরের দিকে আঙুল তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ভরসন্ধ্যায় কালীঘাটের মতো এলাকায় যদি এই ঘটনা ঘটে, তবে সাধারণ মানুষ কোন জঙ্গল রাজত্বে বাস করছেন?”
স্থানীয় সূত্রে খবর, আক্রান্ত কার্যালয়টিতে বসেন প্রাক্তন কাউন্সিলর প্রবীর মুখোপাধ্যায়। গত ৩৭ বছর ধরে এই অফিস থেকেই দলীয় সংগঠনের পাশাপাশি এলাকার মানুষের অভাব-অভিযোগ মেটানোর কাজ চলে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপির আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ঢুকেই তাণ্ডব শুরু করে এবং কর্মীদের মারধর করে পার্টি অফিসটি দখলের চেষ্টা চালায়।
ঘটনার পরেই দলীয় নেত্রীর নির্দেশে ঘটনাস্থলে পৌঁছান শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিদায়ী এমআইসি বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং যুবনেতা শ্রীদীপ দাস। সেখান থেকে তাঁরা কালীঘাট থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানান।
থানার সামনে দাঁড়িয়ে তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ক্ষমতায় এলেও রাজনৈতিকভাবে তৃণমূলকে দমাতে না পেরে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে বিজেপি দুষ্কৃতী রাজত্ব চালানোর চেষ্টা করছে। মানুষ সময়মতো এর উপযুক্ত জবাব দেবে।”
ঘটনাকে ঘিরে কালীঘাট এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তৃণমূলের অভিযোগকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছে গেরুয়া শিবির। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।