হাসপাতালে থমকে টেন্ডার, তবু থামবে না রোগীর খাবার: হাইকোর্টের কড়া বার্তা!

হাসপাতালে থমকে টেন্ডার, তবু থামবে না রোগীর খাবার: হাইকোর্টের কড়া বার্তা!

কলকাতা হাইকোর্ট: মামলার জটিলতায় থমকে রয়েছে টেন্ডার প্রক্রিয়া, কিন্তু তার কোপ রোগীদের পাতের খাবারে পড়তে দেবে না আদালত। রাজ্য সরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগীদের খাদ্য পরিষেবা যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, নতুন কোনো সরবরাহকারী সংস্থা (Vendor) নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত পুরোনো সংস্থাই সমস্ত সরকারি হাসপাতালে খাবার সরবরাহের কাজ চালিয়ে যাবে।

পাশাপাশি, হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চ (Single Bench) টেন্ডার প্রক্রিয়ার ওপর যে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল, তাতে হস্তক্ষেপ করেনি ডিভিশন বেঞ্চ।

⚖️ ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ

বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে:

  • খাবার বন্ধ নয়: নতুন সংস্থা কাজ না পাওয়া পর্যন্ত পুরোনো সংস্থাই খাবার সরবরাহ করবে, তবে তা দেওয়া হবে নতুন নির্ধারিত মূল্যে।
  • টেন্ডার স্থগিত: একক বেঞ্চে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে কোনো টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে না।
  • পরবর্তী পদক্ষেপ: আগামী ২০ আগস্ট একক বেঞ্চে এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। এরপরই রাজ্য সরকার নতুন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে।

🗣️ সওয়াল-জবাবে রাজ্যের যুক্তি ও ঠিকাদারের বক্তব্য

শুনানি চলাকালীন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (AG) সুরজিৎ নাথ মিত্র জানান, গত ১০ এপ্রিল রোগীদের খাবারের মান, ম্যানু এবং সঠিক দাম ঠিক করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু আইনি জটিলতায় টেন্ডার প্রক্রিয়া আটকে থাকায় নতুন সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, পুরোনো খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থার আইনজীবী সপ্তাংশু বসু আদালতে জানান, ২০১৭ সাল থেকে তারা সততার সাথে কাজ করে আসছেন। কিন্তু বর্তমান বাজারে পুরনো হারে খাবার সরবরাহ করতে গিয়ে তাদের চরম আর্থিক লোকসান হচ্ছিল।

উল্লেখ্য, সরকারি হাসপাতালের খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থা নির্বাচন সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একাধিক মামলা হয়েছিল। একক বেঞ্চ টেন্ডারের ওপর যে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছিল, ডিভিশন বেঞ্চ তা বহাল রাখায় আপাতত পুরনো সংস্থাই দায়িত্ব সামলাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *