ইনশিওরেন্স ছাড়াই গাড়ি চালাচ্ছেন? সাবধান! পেট্রল পাম্প ও হাইওয়েতেই এবার পড়তে পারেন মহা ফাঁপরে

ইনশিওরেন্স ছাড়াই গাড়ি চালাচ্ছেন? সাবধান! পেট্রল পাম্প ও হাইওয়েতেই এবার পড়তে পারেন মহা ফাঁপরে

আপনার গাড়ির কি বৈধ বিমা বা ইনশিওরেন্স (Insurance) করা আছে? যদি না থাকে, তবে অবিলম্বে সতর্ক হন। খুব শীঘ্রই ইনশিওরেন্স ছাড়া গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বেরোলে পেট্রল পাম্পে গিয়ে খালি হাতে ফিরতে হতে পারে আপনাকে। শুধু তাই নয়, হাইওয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে আপনার মোবাইলে পৌঁছে যেতে পারে মোটা অঙ্কের জরিমানার ই-চালান।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রর ডিভিশন বেঞ্চ ভারতের বিমা নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (IRDAI) এবং কেন্দ্রীয় পরিবহণ মন্ত্রককে একটি পাইলট প্রজেক্ট চালুর প্রস্তাব দিয়েছে।

কেন এই কড়া দাওয়াই?

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের হিসেব অনুযায়ী ভারতে দৈনিক গড়ে ৫০২ জন মানুষ পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু বিমা না থাকার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সিংহভাগই কোনও ক্ষতিপূরণ বা ক্লেম পাননি।

বর্তমানে দেশে ৩০.৪ কোটি রেজিস্টার্ড গাড়ির মধ্যে প্রায় ১৬.৫ কোটি (প্রায় ৫৬%) গাড়িরই কোনও বৈধ ইনশিওরেন্স নেই! এমনকি মোট সড়ক দুর্ঘটনার ২২ শতাংশ গাড়িই বিমহীন। যদিও মোটর ভেহিকল আইন অনুযায়ী প্রথমবার বিমহীন গাড়ি চালালে ২,০০০ টাকা জরিমানা বা ৩ মাসের জেল (অথবা দুটিই) এবং পরবর্তী অপরাধে ৪,০০০ টাকা জরিমানা বা জেলের বিধান রয়েছে, তবুও এই প্রবণতা আটকানো যাচ্ছে না।

সুপ্রিম কোর্টের ৪টি মূল প্রস্তাব:

১. নো ইনশিওরেন্স, নো ফিউয়েল: পেট্রল পাম্পগুলিতে বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। জ্বালানি দেওয়ার আগে গাড়ির বৈধ বিমা চেক করা হবে। ইনশিওরেন্স না থাকলে মিলবে না পেট্রল বা ডিজেল। ২. হাইওয়েতে ‘স্মার্ট’ ক্যামেরা: জাতীয় ও রাজ্য সড়কে বিশেষ ক্যামেরা বসানো হবে যা ‘বাহন’ (VAHAN) ডেটাবেসের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। গাড়ির নম্বর প্লেট স্ক্যান হলেই জানা যাবে ইনশিওরেন্সের স্ট্যাটাস। বিমা না থাকলে সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির মালিকের মোবাইলে জরিমানার মেসেজ চলে যাবে। ৩. ট্র্যাফিক পুলিশের হাতে ডিজিটাল অ্যাপ: রাস্তায় ট্র্যাফিক পুলিশের হাতেও বিশেষ অ্যাপ বা স্ক্যানার ডিভাইস দেওয়া হবে, যাতে নিমেষের মধ্যে গাড়ির ইনশিওরেন্স পরীক্ষা করে ই-চালান ইস্যু করা যায়। ৪. নতুন গাড়ির বিমার মেয়াদ বৃদ্ধি: থার্ড-পার্টি ইনশিওরেন্সের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নতুন চার চাকা গাড়ির ক্ষেত্রে ৩ বছরের বদলে ৪ বছর এবং দুই চাকার ক্ষেত্রে ৫ বছরের বদলে ৬ বছর করার সুপারিশ করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *