১৬ অগাস্টের মধ্যে e-KYC না করলে বন্ধ হবে রান্নার গ্যাসের ভর্তুকি! জেনে নিন বাড়িতে বসেই করার সহজ উপায়

খবর ডেস্ফ: দেশজুড়ে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস গ্রাহকদের জন্য জারি করা হয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা। আগামী ১৬ অগাস্টের মধ্যে প্রতিটি এলপিজি (LPG) গ্রাহককে বাধ্যতামূলকভাবে ই-কেওয়াইসি (e-KYC) বা বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। নির্ধারিত এই সময়সীমার মধ্যে ই-কেওয়াইসি না করালে, সাধারণ ভর্তুকির দামে আর ১৪.২ কেজির সিলিন্ডার মিলবে না।
ই-কেওয়াইসি না করলে কত টাকা খসবে পকেট থেকে?
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, সরাসরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা না হলেও ১৬ অগাস্টের পর ই-কেওয়াইসি না থাকা গ্রাহকদের বাণিজ্যিক (Commercial) গ্যাসের হারে সিলিন্ডার কিনতে হতে পারে।
- উদাহরণস্বরূপ, কলকাতায় বর্তমানে যেখানে একটি সাধারণ সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৯৬৮ টাকা, ই-কেওয়াইসি না থাকলে সেই সিলিন্ডারের জন্য গুনতে হতে পারে ২,০০০ টাকারও বেশি।
- এমনকি প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা-র গ্রাহকরাও এই প্রক্রিয়ার বাইরে নন; ই-কেওয়াইসি না থাকলে তাঁদের ওপরও বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপবে।
কেন এই কড়াকড়ি?
সরকার ও তেল সংস্থাগুলির মূল উদ্দেশ্য হলো ভুয়ো বা নকল গ্যাস কানেকশন বন্ধ করা এবং সিলিন্ডারের ভর্তুকির অপব্যবহার রোধ করা। যাঁদের বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন সফলভাবে সম্পন্ন হবে, একমাত্র তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্তেই নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী ভর্তুকির টাকা জমা হবে। (উল্লেখ্য: যাঁদের ই-কেওয়াইসি ইতিমধ্যেই করা আছে, তাঁদের নতুন করে আর করার প্রয়োজন নেই।)
ঘরে বসেই কীভাবে করবেন e-KYC?
গ্রাহকদের সুবিধার্থে অনলাইনেই বাড়ি বসে বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে:
- মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে: আপনার গ্যাস সংস্থাসংশ্লিষ্ট অ্যাপ—যেমন ইন্ডিয়ান ওয়েলের ‘IndianOil ONE’, ভারত পেট্রোলিয়ামের ‘Hello BPCL’ অথবা এইচপি-র ‘HP Pay’ ডাউনলোড করে Face Authentication (মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করতে পারেন।
- ডিস্ট্রিবিউটর কার্যালয়ে গিয়ে: স্থানী এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর অফিসে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট (আঙুলের ছাপ), ফেস রিকগনিশন বা রেটিনা স্ক্যানের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা যাবে।
- বিশেষ সুবিধা: প্রবীণ বা শারীরিকভাবে আসামর্থ গ্রাহকদের জন্য ডিস্ট্রিবিউটর কর্মীরা বাড়ি গিয়ে বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন।
কানেকশন ট্রান্সফার ও নাম পরিবর্তনের নিয়ম:
- নাম পরিবর্তন: পরিবারের কোনো মৃত ব্যক্তির (যেমন বাবা-মা) নামে থাকা কানেকশন ব্যবহার করলে, ই-কেওয়াইসি করার আগে সেটি বর্তমান ব্যবহারকারীর নামে ট্রান্সফার করা বাধ্যতামূলক। প্রয়োজনীয় আইনি নথি জমা দিয়ে ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে সহজেই এই নাম বদল করা সম্ভব।
- ঠিকানা পরিবর্তন: অন্য ঠিকানায় কানেকশন সরাতে হলে আগের ডিস্ট্রিবিউটর থেকে ‘Termination and Transfer Voucher’ সংগ্রহ করে নতুন ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে জমা দিতে হবে। তবে এই সমস্ত প্রক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ফি (Administrative Fee) প্রযোজ্য।
সময়সীমা অত্যন্ত কাছাকাছি হওয়ায় শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়াতে ১৬ অগাস্টের আগেই আপনার এলপিজি সংযোগের ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।