পুরোনো মেসেজে AI-এর কারসাজি! অ্যাপলের ফাঁদে টেলিগ্রাম, নেপথ্যে বড় চক্রান্ত?

মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম (Telegram)-কে অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার নেপথ্যে এক বড়সর চাঁদাবাজ বা “টেকডাউন এক্সটরশনিস্ট” চক্রের হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও পাভেল দুভেরভ (Pavel Durov)। বিশ্বজুড়ে প্রায় এক বিলিয়ন (১০০ কোটি) মানুষের ব্যবহৃত এই অ্যাপটি অ্যাপ স্টোর থেকে উধাও হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবশ্য ফিরিয়ে আনা হয়।
ঘটনাটি ঠিক কী ঘটেছিল?
অ্যাপল কর্তৃপক্ষ জানায়, এক ব্যবহারকারীর মাধ্যমে শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত অত্যন্ত আপত্তিকর কনটেন্ট (CSAM) ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পেয়েই তারা টেলিগ্রামকে সাময়িকভাবে অ্যাপ স্টোর থেকে সরিয়ে দেয়। তবে টেলিগ্রাম দ্রুত সেই আপত্তিকর কনটেন্ট মুছে ফেলে এবং জড়িত অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়ার পর অ্যাপল পুনরায় অ্যাপটিকে ফিরিয়ে আনে। স্বস্তির বিষয় হলো, অ্যাপ স্টোর থেকে সরানোর পরও বিদ্যমান ব্যবহারকারীদের পরিষেবা পেতে কোনো সমস্যা হয়নি।
এআই (AI) কারসাজি ও কারিগরি কৌশল
এক্স (X)-এ একটি পোস্ট করে দুভেরভ জানান, হামলাকারীরা এক জঘন্য কারিগরি কৌশল অবলম্বন করেছিল:
- পুরোনো মেসেজ এডিট: টেলিগ্রামের স্বয়ংক্রিয় মডারেশন টুল এড়িয়ে যেতে হামলাকারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি আপত্তিকর কনটেন্ট একটি সক্রিয় পাবলিক গ্রুপের অনেক পুরোনো মেসেজে গোপনে এডিট করে বসিয়ে দেয়।
- রিপোর্ট আটকানোর কৌশল: নতুন মেসেজের ভিড়ে যেন কারো চোখে না পড়ে এবং কেউ রিপোর্ট না করতে পারে, সেজন্যই এই পুরোনো পোস্ট এডিটের পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল।
তবে অ্যাপল ঘটনাটি নিশ্চিত করলেও দুভেরভের ব্ল্যাকমেলিংয়ের যাবতীয় দাবি জনসমক্ষে যাচাই করেনি।
কী এই ‘টেকডাউন এক্সটরশন অ্যাটাক’? দুভেরভের মতে, এই চক্রগুলো বিভিন্ন অনলাইন কমিউনিটি ও অ্যাপকে নিশানা করে অর্থ দাবি করে। দাবি না মানলে বোট বা অটোমেটেড অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নিষিদ্ধ কনটেন্ট পোস্ট করে সরাসরি অ্যাপ স্টোরে রিপোর্ট করে অ্যাপটিকে নিষিদ্ধ করার ভয় দেখায়।
অন্যান্য ডেভেলপারদের প্রতি সতর্কবার্তা
অভিযোগ ও মডারেশন সংক্রান্ত বিতর্কে টেলিগ্রাম এর আগেও একাধিকবার পড়েছে। তবে এই সাম্প্রতিক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে পাভেল দুভেরভ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া, গেমিং কমিউনিটি এবং ফোরাম প্ল্যাটফর্মের ডেভেলপারদের সতর্ক করেছেন।
তিনি ডেভেলপারদের পরামর্শ দিয়েছেন—পুরোনো পোস্ট এডিট করার নিয়ম, সংগঠিত রিপোর্টিং ক্যাম্পেইন এবং অটোমেটেড অ্যাকাউন্টগুলোর ওপর কড়া নজরদারি রাখার জন্য। সেই সাথে, কোনো প্ল্যাটফর্মকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার আগে অ্যাপ স্টোরগুলোর উচিত ডেভেলপারদের সঙ্গে অন্তত একবার যোগাযোগ করা—এই দাবিও আবার নতুন করে উসকে দিল এই ঘটনা।