“ওটা কোনো ছাত্র আন্দোলন ছিল না, ছিল ষড়যন্ত্র”: দেশ ছাড়ার ২ বছর পর ভার্চুয়াল বক্তব্যে বিস্ফোরক হাসিনা
August 5, 20269:01 pm

বাংলাদেশ ছাড়ার ঠিক দুই বছর পর, এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব থেকে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনা কোনো শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না, বরং সংস্কারের আড়ালে এটি ছিল একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।
বক্তব্যের শুরুতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে শেখ হাসিনা বলেন,
“আজ আমি কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসেবে কথা বলছি। আমি দেশ থেকে দূরে থাকলেও আমার দেশের মানুষের থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হইনি।”
প্রধান তুলে ধরা বক্তব্যসমূহ:
- আন্দোলন ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তাঁর সরকার আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু একটি সংগঠিত গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের দাবিকে সহিংস রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করে। এই সহিংসতায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ জানান।
- ইউনূস সরকারের ভূমিকা: ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে হাসিনা বলেন, তখনকার ঘটনার সঠিক তদন্ত তারা বন্ধ করে দিয়েছে। যদি সত্যের ভয় না-ই থাকত, তবে কেন তদন্ত প্রক্রিয়া আটকে দেওয়া হলো—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
- অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও বিএনপিকে আক্রমণ: শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, তাঁর ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে দেশের অর্থনীতি চরম মন্দার মুখে পড়েছে। ব্যাংকে ঋণখেলাপি ও দারিদ্র্য বেড়েছে, শিল্প উৎপাদন কমেছে এবং অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁর দাবি, বর্তমান বিএনপি সরকার প্রতি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৭০০-৯০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে দেশ চালাচ্ছে।
- দেশে ফেরার অঙ্গীকার: সবশেষে শেখ হাসিনা স্পষ্ট জানান, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও তিনি দেশে ফিরবেন। ক্ষমতার লোভে নয়, বরং দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও শান্তি ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশকে সঠিক পথে পরিচালনা করাই তাঁর মূল উদ্দেশ্য।