বিধানসভার কমিটি গঠনে ‘গটআপ গেম’! স্পিকারকে বিঁধে বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ

কলকাতা: রাজ্য বিধানসভার বিভিন্ন বিভাগীয় বা স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে চরম উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। শাসক দল বিজেপি এবং তথাকথিত ‘ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল’ একজোট হয়ে কমিটিগুলির পদ নিজেদের মধ্যে ‘ভাগবাটোয়ারা’ করে নিয়েছে—এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতা তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বুধবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, আসল তৃণমূল অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেই এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
কুণাল ঘোষের অভিযোগ, এবার কমিটি গঠনে দীর্ঘদিনের কোনো নিয়ম বা প্রথা মানা হয়নি। আগে বিধায়কদের অভিজ্ঞতা ও পছন্দের ওপর ভিত্তি করে কমিটিতে জায়গা দেওয়া হতো। কিন্তু এবার সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে মনগড়া তালিকা তৈরি হয়েছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, আইটি বিষয়ে দক্ষ বিধায়ক আলিফা আহমেদকে কোনো আলোচনা ছাড়াই পাঠোনো হয়েছে স্বনির্ভর গোষ্ঠী সংক্রান্ত কমিটিতে।
অভিজ্ঞদের অবহেলার অভিযোগ: কুণাল ঘোষ জানান, ১০ বারের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের চরম অবহেলা করা হয়েছে। মূল তৃণমূল কংগ্রেসকে একটিও স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান পদ দেওয়া হয়নি। এমনকি ৩ বারের স্পিকার বিমানবাবুকে রাখা হয়েছে লাইব্রেরি কমিটির মতো তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র বা হোম স্ট্যান্ডিং কমিটি নিয়ে। কুণালবাবুর দাবি, যাদের বিরুদ্ধে অবৈধ নির্মাণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাদেরই পুলিশ বিভাগের কমিটিতে বসানো হয়েছে। ফলে তারা সরকারের কোনো গঠনমূলক সমালোচনা করবে না।
সরাসরি বিধানসভার স্পিকারকে নিশানা করে কুণাল প্রশ্ন তোলেন, “স্পিকার কি এই স্বজনপোষণ ও ভাগবাটোয়ারার কথা জানতেন? জেনে থাকলে কীভাবে এমন অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ মেনে নিলেন?” তিনি অভিযোগ করেন, মানুষের আসল সমস্যাগুলো যাতে বিধানসভায় না ওঠে, তার জন্যই সরকার ও বিরোধীরা মিলে এই ‘গটআপ’ করেছে। এই বিষয়ে খুব শিগগিরই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে স্পিকারকে চিঠি দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।