একতরফা প্রেমের নারকীয় পরিণতি! ফরিদাবাদে ক্লাস থেকে ডেকে শিক্ষিকাকে ২৭ কোপে খুন

একতরফা প্রেম আর আক্রোশ কতটা ভয়ংকর রূপ নিতে পারে, তার সাক্ষী থাকল হরিয়ানার ফরিদাবাদের সিক্রোনা গ্রাম। একটি বেসরকারি স্কুলের ভেতর ঢুকে ২৯ বছর বয়সী এক তরুণী শিক্ষিকাকে ২৭ বার ছুরিকাঘাত করে নৃশংসভাবে খুন করা হলো। নিহতের নাম সন্ধ্যা শর্মা, যিনি দুই সন্তান (৭ বছরের ছেলে ও ৫ বছরের মেয়ে)-এর মা ছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার লোমহর্ষক সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ ও তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
দু’মাস ধরে খুনের ছক!
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ২১ বছরের অভিযুক্ত অমিত জানিয়েছে, সে দীর্ঘ দুই মাস ধরে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিল। এর আগে রাস্তায় আক্রমণের চেষ্টা করলেও ধরা পড়ার ভয়ে পিছু হটেছিল সে। অবশেষে একটি ধারালো ছুরি কিনে স্কুলেই হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
গত সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ অমিত স্কুলে প্রবেশ করে। শিক্ষিকা সন্ধ্যাকে বিভ্রান্ত করতে তাঁর স্বামী ‘ভিকি’ এসেছেন বলে ক্লাস থেকে ডেকে পাঠানো হয়। সন্ধ্যা বাইরে আসা মাত্রই অমিত তাঁর চুলের মুঠি ধরে গলায় ও বুকে উপর্যুপরি ছুরি চালাতে থাকে। কোপানোর তীব্রতায় ছুরিটি বেঁকে গেলেও থামেনি হামলা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সন্ধ্যার। কেউ বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও খুনের হুমকি দেয় অভিযুক্ত। ঘটনার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ অমিতকে গ্রেফতার করে আদালতের নির্দেশে তিন দিনের হেফাজতে নিয়েছে।
পুরনো আক্রোশ ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
তদন্তে জানা গেছে, বেকার অমিতের একতরফা টান বা প্রস্তাবে কখনোই সাড়া দেননি সন্ধ্যা। এমনকি পূর্বে অমিতের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগও দায়ের করেছিলেন তিনি (যা পরে ক্ষমার ভিত্তিতে মেটানো হয়)। কিন্তু সম্প্রতি সন্ধ্যা নিজের বাসস্থান ও কর্মক্ষেত্র বদলে ফেললে অমিতের আক্রোশ আরও বেড়ে যায়।
এদিকে নিহত শিক্ষিকার স্বামী ভিকি গুর্জর পুলিশের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, পূর্বের শ্লীলতাহানির অভিযোগে পুলিশ যদি তখনই কঠোর ব্যবস্থা নিত, তবে আজ তাঁর স্ত্রীকে এই পরিণতি ভোগ করতে হতো না।