নীল-সাদা অতীত, এবার গেরুয়া ছোঁয়া! নবান্নের পর রবীন্দ্র সদনের ফলকেও রঙের বদল

কলকাতা: তিলোত্তমার শিল্প ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র রবীন্দ্র সদনে এবার বড়সড় রূপবদল। কিছুদিন আগেই নবান্নের নামফলকের রঙ পরিবর্তন নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার ঝড় উঠেছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বদলে গেল রবীন্দ্র সদনের মূল নামফলকের রঙও।
নন্দনের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত এবং দূর থেকে দৃশ্যমান যে ফলকে ‘রবীন্দ্র সদন’ নামটি খোদাই করা রয়েছে, এতদিন সেখানে ছিল শাসকদলের পরিচিত নীল-সাদা রঙ। কিন্তু বৃহস্পতিবার হঠাতই সেই পুরোনো রূপ বদলে পুরো ফলকটিকে গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে তোলা হয়।
কেন এই রঙ বদল?
শুধু রবীন্দ্র সদনের মূল নামফলকই নয়, চত্বরে থাকা বিভিন্ন উদ্যান, মঞ্চ এবং প্রেক্ষাগৃহের সামনের পুরোনো ফলকগুলোর রঙেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে রবীন্দ্র সদনের একাধিক সংস্কারমূলক কাজ করা হয়েছিল এবং তৎকালীন ও পূর্বতন সরকারের মুখ্যমন্ত্রীদের নামাঙ্কিত ফলক বসানো হয়েছিল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের প্রভাবই প্রতিফলিত হচ্ছে সরকারি ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের এই রঙ বদলের রাজনীতিতে।
কী বলছেন শিল্পীরা?
তবে এই রঙের রাজনীতি বা পরিবর্তন নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামাতে নারাজ শহরের শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা। তাঁদের মতে, সরকারি সম্পত্তির রঙ পরিবর্তন হলেও সাংস্কৃতিক জগতে তার কোনো প্রভাব পড়বে না। রবীন্দ্র সদন চত্বরে উপস্থিত একাধিক শিল্পীর সুরেই তা পরিষ্কার—
“রাজা আসে, রাজা যায়, কিন্তু শিল্পীরা চিরকাল একই থাকেন এবং শিল্প বেঁচে থাকে তার নিজস্ব ছন্দে।”
নবান্নের স্মৃতি উস্কে দিল এই ঘটনা
এর আগে ঠিক একই ভাবে রাজ্য প্রশাসনিক ভবন ‘নবান্ন’-এর নামফলক ও তার আলোতেও গেরুয়া ছোঁয়া দেখা গিয়েছিল। যদিও মূল নবান্ন ভবনের রঙ অপরিবর্তিত রেখে কেবল প্রধান ফলকটিই বদল করা হয়েছিল। এবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল বাংলার সাংস্কৃতিক মানচিত্রের অন্যতম প্রধান ঠিকানা রবীন্দ্র সদনেও।