বফর্স মামলায় স্থায়ী যবনিকা: হিন্দুজা ভাইদের স্বস্তি বহাল রেখে আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টের

বফর্স মামলায় স্থায়ী যবনিকা: হিন্দুজা ভাইদের স্বস্তি বহাল রেখে আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টের

বহু আলোচিত বফর্স কেলেঙ্কারির দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে অবশেষে চূড়ান্ত যবনিকা টানল দেশের শীর্ষ আদালত। ২০০৫ সালে দিল্লি হাইকোর্টের দেওয়া ঐতিহাসিক রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা একটি আবেদন সম্প্রতি খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লি হাইকোর্টের সেই রায়ে হিন্দুজা ভ্রাতৃদ্বয় এবং সুইডিশ অস্ত্র প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘এবি বফর্স’-এর বিরুদ্ধে চলা সমস্ত ফৌজদারি মামলা বাতিল করা হয়েছিল।

বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ আইনজীবী অজয় কে আগরওয়ালের এই আবেদনটি শুনতে স্পষ্ট অস্বীকার করে। এর মাধ্যমেই বহু দশকের পুরোনো এই হাই-প্রোফাইল মামলার আইনি অধ্যায়ের স্থায়ী সমাপ্তি ঘটল।

শুনানি চলাকালীন আবেদনকারী আইনজীবী আদালতকে জানান যে, মামলার অন্যতম দুই অভিযুক্ত শ্রীচাঁদ পি হিন্দুজা এবং গোপীচাঁদ পি হিন্দুজা ইতিমধ্যেই মারা গেছেন। ফলে আবেদনপত্র সংশোধন করে তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য তিনি চার সপ্তাহের সময় প্রার্থনা করেন।

তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন নাকচ করে দেয়। বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, এই মামলাকে আর দীর্ঘায়িত করা সম্ভব নয়। শুনানি চলাকালীন বিচারপতি পারদিওয়ালা প্রশ্ন তোলেন—২০০৫ সালেই যখন দিল্লি হাইকোর্ট মামলাটি খারিজ করেছিল এবং সিবিআইয়ের চ্যালেঞ্জও ব্যর্থ হয়েছিল, তখন নতুন করে এই মামলার আর কী বিচার্য বিষয় থাকতে পারে?

কী ঘটেছিল ২০০৫ সালে?

২০০৫ সালের ৩১ মে দিল্লি হাইকোর্ট শ্রীচাঁদ, গোপীচাঁদ ও প্রকাশ হিন্দুজার পাশাপাশি ‘এবি বফর্স’ সংস্থাকে সমস্ত ফৌজদারি অভিযোগ থেকে মুক্ত করে। আদালত জানিয়েছিল, সিবিআইয়ের পেশ করা প্রমাণে গুরুতর ত্রুটি ছিল এবং হিন্দুজা ভাইরা যে অবৈধ কমিশন পেয়েছিলেন বা সরাসরি কোনো অপরাধে যুক্ত ছিলেন, তার কোনো শক্ত প্রমাণ সিবিআই দিতে পারেনি।

হাইকোর্ট আরও পর্যবেক্ষণ করেছিল যে, সুইডেন থেকে সংগৃহীত নথিপত্রগুলি আসল বা সার্টিফাইড কপি ছিল না। পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া এমন একটি মামলা চালানো মানে জনস্বার্থ ও সরকারি অর্থের অপচয়। উল্লেখ্য, এই তদন্ত চালাতে গিয়ে সরকারি কোষাগারের প্রায় ২৫০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। এর আগে ২০১৮ সালের নভেম্বরেও বিলম্বের কারণ দেখিয়ে সিবিআইয়ের একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।

বফর্স মামলার সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট

  • ১৯৮৬ (২৪ মার্চ): ভারত সরকার ও সুইডিশ সংস্থা এবি বফর্সের মধ্যে ১,৪৩৭ কোটি টাকার চুক্তি হয়। চুক্তিটি ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য ৪০০টি হাউইটজার কামান কেনার।
  • ১৯৮৭: সুইডিশ রেডিওর একটি বিশেষ রিপোর্টের পর এই চুক্তিকে ঘিরে রাজনৈতিক ঝড় ওঠে। অভিযোগ ওঠে, চুক্তিটি পাকা করতে ভারতের প্রথম সারির রাজনীতিবিদ ও সেনাকর্তাদের মোটা অঙ্কের ঘুস দেওয়া হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টের এই সাম্প্রতিক ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় রাজনীতি ও আইনি ইতিহাসের অন্যতম বড় বিতর্ক—বফর্স মামলার সমস্ত জল্পনার চিরতরে অবসান ঘটল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *