‘আজকের গাছই কালকের এসি!’ আইআইটি খড়গপুরের চরম হুঁশিয়ারি, দ্রুত তপ্ত হচ্ছে কলকাতা
August 7, 20269:00 pm

বিগত দুই দশকে অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণের ফলে কলকাতা ও তার আশপাশের অঞ্চলে পরিবেশের চরম অবনতি ঘটেছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা পত্রিকা ‘এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড পলিউশন রিসার্চ’—এ প্রকাশিত আইআইটি খড়গপুরের (IIT Kharagpur) একটি গবেষণায় এই আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে।
প্রধান তথ্যসমূহ:
- কংক্রিটের বিস্তার: ২০০০ সালে কলকাতা মহানগর অঞ্চলের ৭২% এলাকা নির্মিত বা ‘বিল্ট-আপ’ ছিল, যা ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬%-এ।
- সবুজ ও জলাভূমি ধ্বংস: আবাসন ও বাণিজ্যিক সুবিধার জন্য গত দুই দশকে ৬০ বর্গকিলোমিটারের বেশি সবুজ এলাকা, ২০ বর্গকিলোমিটার কৃষিজমি এবং ১০ বর্গকিলোমিটার জলাভূমি বুজিয়ে ফেলা হয়েছে।
- আরবান হিট আইল্যান্ড: বর্ষার আগেই কলকাতার কিছু জায়গায় পার্শ্ববর্তী এলাকার তুলনায় তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকছে। বেহালা, বাঁশদ্রোণী, দমদম ও নিউ টাউনে প্রতি বছর গড়ে ০.১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে তাপমাত্রা বাড়ছে।
- দূষণ হটস্পট: এসপ্ল্যানেড, পার্ক স্ট্রিট, ডালহৌসি ও বউবাজারের মতো যানজটপূর্ণ এলাকাগুলোতে ধোঁয়াশা ও সবুজের অভাবে বাতাসের গুণমান মারাত্মক বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে।
আইআইটি খড়গপুরের পরামর্শ ও সমাধান:
- নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ: পূর্ব কলকাতা জলাভূমি, ভাঙড়-সোনারপুরের কৃষিজমি এবং হুগলি নদীর অববাহিকায় সব ধরনের নতুন নির্মাণ অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত, অন্যথায় বন্যা ও দাবদাহের মতো বিপর্যয় আরও বাড়বে।
- বিকল্প নগর পরিকল্পনা: নতুন আবাসন বা অবকাঠামোর জন্য ফাঁকা প্রাকৃতিক জমি নষ্ট না করে ডানকুনি বা মহেশতলার মতো পরিত্যক্ত শিল্পাঞ্চল ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- নগর বন ও গ্রিন করিডোর: মধ্য কলকাতা, নিউ টাউন ও হাওড়ায় দ্রুত কৃত্রিম ‘নগর বন’ (Urban Forest) এবং গ্রিন করিডোর গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।