‘আমাদের আইনে নাক গলাবেন না’, FCRA বিতর্ক নিয়ে মার্কিন সাংসদকে ভারতের কড়া জবাব!

সংসদে পেশ হওয়া ‘ফরেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ (FCRA Bill 2026) নিয়ে আমেরিকার সমালোচনার কড়া জবাব দিল নয়াদিল্লি। মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাইলি মুর-এর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের জন্য আইন তৈরি করা ভারতের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়।
বিতর্ক কেন? কী বলেছিলেন মার্কিন সাংসদ?
সম্প্রতি প্রস্তাবিত FCRA সংশোধনী বিল নিয়ে মার্কিন রিপাবলিকান সাংসদ রাইলি মুর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গত ৪ অগস্ট এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, এই নতুন আইন কার্যকর হলে ভারত সরকার যেকোনো সংস্থার বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ, রেজিস্ট্রেশন বাতিল এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার একচ্ছত্র ক্ষমতা পেয়ে যাবে।
মুর অভিযোগ করেন, এই আইন কার্যকর হলে ভারতে বিশেষ করে গির্জা ও খ্রিস্টান ধর্মীয় সংস্থাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একে একটি নির্দিষ্ট ধর্মের ওপর আক্রমণ বলে অভিহিত করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, এর ফলে ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে।
বিদেশ মন্ত্রকের পাল্টা জবাব
মার্কিন সাংসদের এই মন্তব্যকে সরাসরি খারিজ করে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারতে আইন তৈরির একটি নিজস্ব ও সুনির্দিষ্ট গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রয়েছে। দেশের যেকোনো আইনকে সেই সাংবিধানিক কাঠামোর ভিত্তিতেই বিচার করা উচিত, বাইরের কোনো দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়।
পাল্টা যুক্তি দিয়ে জয়সওয়াল মনে করিয়ে দেন, আমেরিকা-সহ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই বিদেশি অনুদান ও অর্থপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য নিজস্ব কঠোর আইন রয়েছে। ফলে ভারত নিজের দেশের সুরক্ষায় আইন সংশোধন করলে সেখানে আমেরিকার অহেতুক মন্তব্যের কোনো অবকাশ নেই।
কী এই FCRA সংশোধনী বিল?
ভারতে বর্তমানে ২০১০ সালের ‘ফরেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যাক্ট’ অনুযায়ী যেকোনো এনজিও (NGO) বা সংস্থার বিদেশি অনুদান গ্রহণ ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হয়।
প্রস্তাবিত সংশোধনীটির মূল উদ্দেশ্য হলো—বিদেশ থেকে আসা বিপুল অর্থ যাতে ভারতের সার্বভৌমত্ব, দেশের অখণ্ডতা, জনস্বার্থ বা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ক্ষতি না করতে পারে, তা নিশ্চিত করা এবং আর্থিক লেনদেনে নজরদারি আরও জোরদার করা।