‘কাট-অ্যান্ড-পেস্ট’ ভুলে তোলপাড়! ফরেনসিক রিপোর্টে গরমিল ধরে ঘুম উড়ল প্রশাসনের

‘কাট-অ্যান্ড-পেস্ট’ ভুলে তোলপাড়! ফরেনসিক রিপোর্টে গরমিল ধরে ঘুম উড়ল প্রশাসনের

আদালতে ফরেনসিক রিপোর্টের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন! পকসো মামলার শুনানি চলাকালীন ভোপাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (FSL) রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর গরমিল ধরা পড়ার পর কড়া পদক্ষেপ নিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। গত পাঁচ বছরে এই ল্যাব থেকে আদালতে জমা পড়া সমস্ত ডিএনএ রিপোর্টের ২০ শতাংশের ‘র্যান্ডম অডিট’ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

ঠিক কী ঘটেছে?

মধ্যপ্রদেশের ইতারসির বাসিন্দা পঙ্কজ কুমারকে একটি পকসো ও ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল নিম্ন আদালত। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। শুনানির সময় পুলিশকে ডিএনএ রিপোর্ট জমা দিতে বলে আদালত।

ভোপাল FSL-এর তৈরি ডিএনএ রিপোর্ট খতিয়ে দেখতে গিয়ে তাজ্জব বনে যান বিচারপতিরা। দেখা যায়, রিপোর্টে ‘M’ নামের এক অজানা ব্যক্তির নমুনার উল্লেখ রয়েছে, যার সাথে এই মামলার কোনো সম্পর্কই নেই! শুধু তা-ই নয়, ঘটনার চার মাস পর নমুনা সিল করা নিয়ে আদালতের মুখে পড়ে পুলিশের গাফিলতিও।

‘টাইপিংয়ের ভুল’ সাফাই খারিজ

ল্যাবরেটরির পক্ষ থেকে একে ‘কাট-অ্যান্ড-পেস্ট’ বা টাইপিংয়ের ভুল বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, তা মেনে নেয়নি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ (বিচারপতি বিবেক আগরওয়াল ও বিচারপতি বিবেক জৈন)। বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, জীবন-মৃত্যুর মতো সংবেদনশীল মামলায় এই ধরনের “টাইপিংয়ের ভুল” কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না। এতে গোটা রাজ্য FSL-এর রিপোর্টের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে যায়।

হাইকোর্টের ৩টি কড়া নির্দেশ:

  • র্যান্ডম অডিট: বিগত ৫ বছরে জমা পড়া সমস্ত ডিএনএ রিপোর্টের ২০ শতাংশ পরীক্ষা বা অডিট করতে হবে।
  • বিশেষজ্ঞ কমিটি: রাজ্যের বাইরে থেকে আসা ‘সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার’দের নিয়ে ৩ সদস্যের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
  • যোগ্য পরিচালক: বর্তমান ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের প্রাসঙ্গিক বিষয়ে উপযুক্ত অভিজ্ঞতা না থাকায়, সেখানে যোগ্য ব্যক্তি নিয়োগের বিষয় ভাবতে বলা হয়েছে।

আগামী ১২ আগস্টের মধ্যে এই সংক্রান্ত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মামলার পরবর্তী শুনানি ১৪ আগস্ট ধার্য করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *