২০ পাতার নথির আইনি জবাব প্রস্তুত করা চ্যালেঞ্জ, লোকসভায় আরও ১ মাস মেয়াদ চান তৃণমূলের ২০ ‘বিদ্রোহী’

২০ পাতার নথির আইনি জবাব প্রস্তুত করা চ্যালেঞ্জ, লোকসভায় আরও ১ মাস মেয়াদ চান তৃণমূলের ২০ ‘বিদ্রোহী’

খাতায়-কলমে তাঁরা এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ। তবে বাস্তবে তোপ দেগেছেন নিজেদের দলের বিরুদ্ধে এবং হাত মিলিয়েছেন এনডিএ শিবিরের সঙ্গে। বিধানসভা নির্বাচনের পর সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজ্য রাজনীতি সরগরম। এবার দলত্যাগবিরোধী আইন অনুযায়ী কেন তাঁদের সাংসদ পদ খারিজ হবে না—অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আনা এই প্রশ্নের জবাব দিতে লোকসভার সচিবালয়ের কাছে আরও চার সপ্তাহ বা এক মাস সময় চাইলেন এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়া এই নেতারা।

অভিষেকের নথির বহরেই কি বাড়তি সময়? প্রথম দফায় গত ২৫ অগস্ট লোকসভার সচিবালয়ের তরফে এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের কাছে জবাব চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমা দেওয়া নথির ভিত্তিতে তাঁদের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। সেই নোটিসের জবাব জমা দেওয়ার সময়সীমা স্পিকার ওম বিড়লার দফতর বাড়িয়ে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করেছিল। তবে সেই বেঁধে দেওয়া মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ফের বাড়তি সময়ের আবেদন জানিয়ে দরবার করেছেন তৃণমূলের প্রাক্তন এই প্রতিনিধিরা।

সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রটি প্রায় ২০ পাতার এক দীর্ঘ নথি। সেখানে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ ও আইনি তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, অভিষেকের পেশ করা প্রতিটি পয়েন্টের সুনির্দিষ্ট ও আইনি দিক থেকে নিখুঁত উত্তর তৈরি করার জন্যই এই অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।

আইনি মারপ্যাঁচে আটকে ভাগ্য উল্লেখ্য, বিধানসভা ভোটের ধাক্কার পরই প্রকাশ পায় জোড়াফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ। মূলত পর্দার আড়ালে থাকা এনসিপিআই (NCPI) দলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সুদীপ-কাকলিরা ভিড়ে যান এনডিএ-তে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একই মঞ্চ বা বৈঠকে তাঁদের স্বাভাবিক উপস্থিতি দেখা গেলেও, সংসদের খাতা-কলমে তাঁরা এখনও তৃণমূলেরই সাংসদ।

এই আইনি জটিলতাকে হাতিয়ার করেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের সদস্যপদ খারিজের দাবিতে স্পিকার থেকে সুপ্রিম কোর্ট—সব জায়গাতেই লড়াই চালাচ্ছেন। এখন লোকসভার স্পিকার তাঁদের অতিরিক্ত সময় চাওয়ার এই আর্জিতে সায় দেন কি না, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *