‘আওয়ামী লীগ শত্রু নয়, মিত্র!’ হাসিনার ঢাকা ফেরার গুঞ্জনের মাঝেই BNP সাংসদের বিস্ফোরক দাবি!

ভারতে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার দু’বছর পর প্রথমবার প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া’ আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী ডিসেম্বর মাসেই তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসার পরিকল্পনা করছেন। শেখ হাসিনার এই মন্তব্যের পর থেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
আওয়ামী লীগ আমাদের মিত্র: BNP সাংসদের চমকপ্রদ দাবি
হাসিনার ঢাকা ফেরার ঘোষণার পরপরই সুনামগঞ্জ-২ আসনের BNP সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন চৌধুরী এক দলীয় সভায় দাবি করেন, আওয়ামী লীগ BNP-র শত্রু নয়, বরং মিত্র। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রেই দুই দল পাশাপাশি লড়াই করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ বিএনপি-র সাথে জোটে আসতে পারে কিংবা মিশেও যেতে পারে। তবে BNP-র অন্যান্য শীর্ষ নেতারা বিষয়টিকে নাসির উদ্দিনের নিতান্তই ‘ব্যক্তিগত মতামত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
হাসিনার দিল্লির বক্তব্য নিয়ে ক্ষুব্ধ ঢাকা
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসে। ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে।
নয়াদিল্লিতে হাসিনার এই সাংবাদিক সম্মেলন নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকার। বিএনপি-র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভি অভিযোগ করেছেন, জুলাই আন্দোলনের শহিদদের অপমান করতে এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করতে ভারত সরকার পরিকল্পিতভাবে হাসিনাকে এই সুযোগ করে দিয়েছে। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে ‘রাজপথেই তার জবাব দেওয়া হবে’।
ভারতের সাফাই ও অবস্থান
বাংলাদেশের এই তীব্র প্রতিক্রিয়ার জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করেছেন যে, এই সাংবাদিক সম্মেলনটি একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে হয়েছিল। এর সাথে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। পাশাপাশি, বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচিত সরকার নিয়ে শেখ হাসিনা যেসব মন্তব্য করেছেন, নয়াদিল্লি তার সাথে একমত নয় বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।