“এনডিএ শরিক নই, বিজেপিতেও যাচ্ছি না”— শুভেন্দুর সাথে বৈঠকের পর বিষ্ফোরক আবু-খলিলুর

নবান্ন: দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনে প্রাতরাশ বৈঠকে যোগ দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করলেন সাংসদ আবু তাহের ও খলিলুর রহমান। শনিবার দুপুরে নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক একান্ত বৈঠকে মিলিত হন এই দুই প্রতিনিধি।
বৈঠক শেষে নবান্নের সাংবাদিক সম্মেলন কক্ষ থেকেই নিজেদের অবস্থান নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দেন তাঁরা। এনসিপিআই-তে (NCPI) তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দুই সাংসদ জানান, “ভবিষ্যতে আমরা এই দলে থাকব কি থাকব না, তা একমাত্র সময়ই বলে দেবে।”
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে সাংসদ আবু তাহের বলেন:
“লোকসভার স্পিকার এখনও আমাদের সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) সাংসদ হিসেবেই গণ্য করছেন এবং সংসদে আমাদের নামের পাশে এআইটিসি-র নামই উল্লেখ থাকছে। কাগজে-কলমে এনসিপিআই এখনও এনডিএ-র মোটামুটি শরিক নয়। তবে আমরা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি যে, আমরা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছি না।”
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু:
নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের দুটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বলে জানান দুই সাংসদ—
- এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া: পিছিয়ে পড়া ও সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির কথা তুলে ধরে তাঁরা জানান, অনেকেই পর্যাপ্ত তথ্য সম্পর্কে সচেতন নন। প্রথম দফায় ৭ লক্ষ মানুষের নাম তোলার কাজ দ্রুত করার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাকি ২০ লক্ষ মানুষের আবেদনের সময়সীমা বাড়াতে কেন্দ্র ও রাজ্য— উভয় পক্ষকেই অনুরোধ জানানো হয়েছে।
- মসজিদের মাইক বিতর্ক: অতি-উৎসাহী পুলিশি তৎপরতায় একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে নিশানা করা হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে কাউকে আলাদা করে টার্গেট করা হবে না। এই বিষয়ে দু’দিন আগে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও দরবার করা হয়েছিল বলে জানান সাংসদরা।
শেষে দুই সাংসদ স্পষ্ট করে দেন যে, সরকারের জনকল্যাণমুখী কাজকে তাঁরা সবসময় সমর্থন করবেন। তবে মুর্শিদাবাদসহ সমগ্র রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর কোনো আঘাত এলে তার বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাকবে।