অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশনের ফাঁদ! বিডিও অফিসের নাম করে গৃহবধূর টাকা ও ওয়াটসঅ্যাপ হ্যাক

নিজস্ব প্রতিনিধি: অন্নপূর্ণা যোজনার পরবর্তী কিস্তির টাকা কবে ঢুকবে, তাই নিয়ে যখন উপভোক্তাদের অপেক্ষা তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই সরকারি প্রকল্পকে হাতিয়ার করে ঘটে গেল বড়সড় প্রতারণা। বিডিও (BDO) অফিসের আধিকারিক সেজে ফোন করে এক গৃহবধূর ইউপিআই (UPI) ও ওয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) হ্যাক করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের বাঁকা ভবানীপুর এলাকায়। প্রতারণার শিকার হওয়া ওই গৃহবধূর নাম রিঙ্কু মণ্ডল হাতি।
ঠিক কী ঘটেছিল?
রিঙ্কুদেবী জানান, শুক্রবার বিকেলে তাঁর ফোনে একটি অচেনা নম্বর থেকে কল আসে। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি নিজেকে বিডিও অফিসের কর্মী পরিচয় দিয়ে জানায়, অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশন চলছে। গৃহবধূ প্রথম কিস্তি পেলেও দ্বিতীয় কিস্তি পাননি, তাই ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে একসঙ্গে দুই কিস্তির টাকাই তাঁর অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
এরপরই আসল খেলা শুরু করে প্রতারক। ভেরিফিকেশন প্রসেস শেষ করার অজুহাতে একটি নির্দিষ্ট UPI নম্বরে কিছু টাকা পাঠাতে বলা হয় এবং আশ্বাস দেওয়া হয় যে টাকাটি দ্রুত ফেরত চলে আসবে। সরল বিশ্বাসে প্রতারকের দেওয়া নম্বরে টাকা পাঠাতেই ঘটে বিপত্তি!
অভিযোগ: টাকা পাঠানোর সাথে সাথেই ফোনের সংযোগ কেটে যায়। শুধু টাকাই নয়, ওই গৃহবধূর ওয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট এবং অনলাইন লেনদেনের মাধ্যমও হ্যাক হয়ে যায়।
প্রশাসনের দ্বারস্থ পরিবার
ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে রিঙ্কুদেবী ও তাঁর পরিবার। ইতিধ্যেই বিষয়টি জানিয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
প্রশাসনের তরফে বারবার প্রচার চালিয়েও সাধারণ মানুষকে সচেতন করা সত্ত্বেও জালিয়াতির এই নতুন কৌশল রুখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অচেনা কোনো নম্বর থেকে সরকারি প্রকল্পের কথা বলে টাকা চাইলে বা ব্যাংকের তথ্য জানতে চাইলে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।