‘সিঙ্গুরে শিল্প এত সহজ নয়!’ জট কাটাতে ‘ডবল ইঞ্জিন’ ও নতুন ইনসেন্টিভ পলিসির পথে রাজ্য

১৫ বছরের দীর্ঘ শিল্পখরা কাটিয়ে অবশেষে কি নতুন ভোরের মুখে বাংলা? সিঙ্গুরে কি আবারও মাথা তুলে দাঁড়াবে শিল্প? জল্পনা উসকে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় স্পষ্ট জানালেন, বাংলায় অবশ্যই শিল্প আসবে এবং সিঙ্গুরেও তার ছোঁয়া লাগবে—তবে তার জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। আগামী ১১ আগস্ট নবান্নে রাজ্যের শিল্প সংক্রান্ত মেগা বৈঠকের আগে রবিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই আশার কথা শোনান তিনি।
বিগত বাম ও বর্তমান তৃণমূল শাসনের দিকে নিশানা করে মন্ত্রী জানান, এই দীর্ঘ সময়ে শুধু টাটা বা কুমারমঙ্গলম বিড়লাই নয়, রাজ্য ছেড়ে চলে গিয়েছে প্রায় ৬,৬৮৮টি ছোট-বড় শিল্প সংস্থা। সিঙ্গুরে টাটাদের কারখানা না হওয়া এবং পরবর্তীতে সুদ-সহ প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ গুণতে হওয়া রাজ্য সরকারের কাঁধে এক বিশাল আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে অতীতের এই ‘খানাখন্দ’ পেরিয়ে রাজ্যে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে নতুন শিল্পনীতি ও জমিনীতির প্রাথমিক খসড়া তৈরি হওয়ার কথা। সেই চূড়ান্ত নীতি নির্ধারণ করতেই আগামী মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নবান্নে সমস্ত অংশীদারদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন শিল্পমন্ত্রী।
নবান্নের নতুন ‘মাস্টারপ্ল্যান’ ও বিনিয়োগের নকশা:
- বিনিয়োগ প্রস্তাব যাচাই: শুধুমাত্র জমি দেওয়াই নয়, নতুন বিনিয়োগকারীরা কী ধরনের শিল্প গড়তে চান, তাতে কতজনের কর্মসংস্থান হবে এবং অনুসারী শিল্প (Ancillary Industry) গড়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে কি না—সবকিছু গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
- আন্তর্জাতিক নজর: ইতিমধ্যেই বাংলায় বিনিয়োগে বিপুল আগ্রহ দেখিয়েছে জাজল সংস্থা ‘মিৎসুবিশি’। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের টানতে বিশেষ ‘ইনসেন্টিভ পলিসি’ বা আর্থিক ছাড়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
- অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে টেক্কা: ওড়িশা, গুজরাট কিংবা মহারাষ্ট্রের মতো বাংলাতেও জমি, কর, বিদ্যুৎ এবং আর্থিক সুবিধার সমন্বয়ে আকর্ষণীয় ‘প্যাকেজ’ তৈরি করা হচ্ছে।
- কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা: কেন্দ্র সরকারের ‘ভারত ঔদ্যোগিক বিকাশ যোজনা’ (ভব্য)-র অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে রাজ্যকে, যা শিল্প বিকাশে ‘ডবল ইঞ্জিন’-এর কাজ করবে।
সব মিলিয়ে, অতীতের জট কাটিয়ে বাংলায় ফের বড় মাপের শিল্পের জোয়ার আনতে একগুচ্ছ নতুন কৌশলেই ভরসা রাখছে রাজ্য সরকার।