‘জেন-জি’র মন বুঝতে ব্যর্থ কংগ্রেস? রাহুলের কর্মসূচি নিয়ে শশী থারুরের বিস্ফোরক আত্মসমালোচনা!

কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচি তরুণদের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়েছে—এমনই বিস্ফোরক ও খোলামেলা স্বীকারোক্তি দিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা শশী থারুর। সম্প্রতি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র তরফ থেকে হওয়া তরুণদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে দলের ভেতরের অভ্যন্তরীণ ত্রুটি নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি।
শনিবার মুম্বইতে ইন্ডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশনস (IIMUN)-এর ১৫তম বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে থারুর প্রশ্ন তোলেন, কংগ্রেস কি তবে নতুন প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’ (Gen Z)-র ভাবনা চিন্তা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে?
তিনি জানান, যন্তর মন্তরে সিজেপি আন্দোলনকারীরা প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষার্থীদের যেসব সমস্যা নিয়ে সরব হয়েছেন, কংগ্রেস আগেই ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচির মাধ্যমে তা তুলে ধরেছিল। তা সত্ত্বেও কংগ্রেসের এই উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। থারুরের মতে, কেবল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করলেই চলবে না; কেন কংগ্রেসের বার্তা যুবসমাজের হৃদয়ে পৌঁছাল না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে।
স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে আত্মসমালোচনা করে থারুর বলেন:
“আমাদের নিজেদেরই প্রশ্ন করা উচিত, ভুলটা কোথায় হলো? আমরা কি তরুণদের কথা মন দিয়ে শুনতে ব্যর্থ হয়েছি? নাকি জেন-জি প্রজন্মের ভাবনার সঙ্গে আমাদের বার্তার কোনো মেলবন্ধন ঘটেনি?”
তিনি আরও যোগ করেন, মূলধারার রাজনীতিতে তরুণদের আসার পথ অত্যন্ত কঠিন। দলের ভেতরের পদমর্যাদার উচ্চক্রম, রাজপরিবার বা বংশানুক্রমিক রাজনীতির (dynasty) মতো পুরনো কাঠামোর কারণেই আন্দোলনরত তরুণরা রাজনীতিতে সঠিক জায়গা পান না। তরুণদের কেবল দলীয় মিছিলে হাঁটানো বা রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে ব্যবহার না করে, নীতি নির্ধারণের মূল দায়িত্বে আনার জোর দাবি জানান তিনি। একই সাথে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি এখনই সতর্ক না হয় এবং যুবসমাজের ভাষা না বোঝে, তবে আগামী দিনে তারা পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে।
প্রয়াগরাজে যখন রাহুল গান্ধী ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’-র তৃতীয় পর্বে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলছেন, ঠিক তার আগেই দলীয় সহকর্মীর এই প্রজ্ঞাপূর্ণ আত্মসমালোচনা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।