ডেটিং অ্যাপে প্রেমের ফাঁদ! অন্তরঙ্গ ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিতে ৬ কোটি টাকা লুট

সোশ্যাল মিডিয়া ও ডেটিং অ্যাপকে হাতিয়ার করে এক অভিনব ও ভয়ঙ্কর প্রতারণার জাল বিছিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের এক তরুণী। প্রেমে ফেলার অভিনব চক্রান্ত, অন্তরঙ্গ ছবি আদান-প্রদান এবং শেষমেশ ব্ল্যাকমেল—এই তিন কৌশলে বিভিন্ন পুরুষের কাছ থেকে প্রায় ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি প্রয়াগরাজের হাইকোর্টের এক আইনজীবী পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতেই প্রকাশ্যে আসে এই চক্রের কীর্তিকলাপ। অভিযুক্ত তরুণীর নাম পল্লবী সিং রাজপুত। তবে প্রতারণার খাতিরে তিনি সবসময় নিজের আসল নাম ব্যবহার করতেন না; কখনো ‘সুইটি তিওয়ারি’ তো কখনো অন্য ছদ্মনামে টিন্ডার (Tinder) সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া প্রোফাইল খুলতেন।
কীভাবে চলত এই প্রতারণা? অভিযোগ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে ডেটিং অ্যাপ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরুষদের সঙ্গে চ্যাট করে বন্ধুত্ব জমাতেন পল্লবী। কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতেন। এরপর ভিডিও কল বা দেখা করার সময় কৌশলে পুরুষদের কিছু ‘বিশেষ’ ও ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও তুলে রাখতেন অথবা ছবি আদান-প্রদান করতেন।
ঘনিষ্ঠতা চরম পর্যায়ে পৌঁছলেই শুরু হতো আসল খেলা! সেইসব আপত্তিকর ছবি দেখিয়ে শুরু হতো কড়া ব্ল্যাকমেইলিং। টাকা না দিলে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার এবং মিথ্যে অপরাধমূলক মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। শুধু ফাঁকা হুমকিই নয়, দাবি মতো টাকা না পেয়ে ইতিমধ্যেই অন্তত ৫ জন পুরুষের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা ঠুকে দিয়েছেন ওই তরুণী! মান-সম্মানের ভয়ে অনেকেই মুখ বুজে কোটি কোটি টাকা তুলে দিয়েছেন তাঁর হাতে।
পুলিশি তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, পল্লবী এই কাজ একা করতেন না। তাঁর সঙ্গে এই গ্যাংয়ে আরও দুই নারী ও এক পুরুষ যুক্ত রয়েছেন। আইনজীবীর অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়: ঘটনাটি সামনে আসতেই নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কেউ মন্তব্য করেছেন, “আজকালের দিনে কাকে বিশ্বাস করবেন বোঝা দায়!” আবার অন্য একজন সতর্ক করে লিখেছেন, “কয়েকদিনের চেনা ডেটিং অ্যাপের সঙ্গীর সঙ্গে অত ঘনিষ্ঠতা বাড়ালে তো এই বিপদই ডেকে আনবে!”