ড্রাগনের চোখে চোখ ভারতের! তিব্বতের ২৭টি এলাকার নাম বদলে বেজিংকে কড়া জবাব নয়াদিল্লির

নয়াদিল্লি: অরুণাচল প্রদেশকে ঘিরে চিনের ধারাবাহিক উস্কানি ও চতুর কৌশলের বিরুদ্ধে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ করল ভারত। চিনের আগ্রাসনের জবাবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) সংলগ্ন চিন-অধীকৃত তিব্বতের ২৭টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক এলাকার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বদলে দিল নয়াদিল্লি।
ভারতের জাতীয় মানচিত্র প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’ অরুণাচল প্রদেশের একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে তিব্বতের এই এলাকাগুলির নতুন ভারতীয় নাম যুক্ত করা হয়েছে। ম্যাকমোহন লাইনের ওপারে চিন যেভাবে একের পর এক ভারতীয় ভূখণ্ডের নাম পরিবর্তন করছিল, কৌশলগতভাবে এটি তারই মোক্ষম পাল্টা জবাব।
শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিবৃতি জারি করা হয়। জানানো হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশ সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর বৈজ্ঞানিক ও নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে এলএসি-র ওপার সংলগ্ন এই অঞ্চলগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে। ভারত সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো—এই এলাকাগুলির ঐতিহাসিক স্বীকৃতি বজায় রাখা এবং সীমান্ত নিয়ে দেশবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো।
কী কী রয়েছে এই তালিকায়?
নতুন মানচিত্রে স্থান পাওয়া এই ২৭টি স্থান ভারতের পুরোনো এবং ১৯৬২ সালের আগের সামরিক মানচিত্রে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত ছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম: ১৯৬২ সালের রণক্ষেত্র সুবানসিরি জেলার লংজু, মাজা ও বিসা গ্রাম। (বিশেষ উল্লেখ্য, ‘বিতর্কিত’ লংজু গ্রামটি ১৯৫৯ সাল থেকে চিনের দখলে থাকলেও ভারত সবসময় একে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলেই মেনে এসেছে)।
- কৌশলগত গিরিপথ: ম্যাকমোহন লাইন বরাবর অবস্থিত জোলা, রিজালা এবং পুকুর লা।
- ঐতিহাসিক যুদ্ধক্ষেত্র: তাওয়াং সীমান্ত সংলগ্ন ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধের অন্যতম ঐতিহাসিক কেন্দ্র থাগ লা গিরিপথ।