সম্পত্তির লোভে নিভে গেল ৭ বছরের জীবন! মালদহে সৎ মায়ের বিরুদ্ধে নৃশংস খুনের অভিযোগ

বৈষ্ণবনগর: স্বামীর সম্পত্তিতে ভাগ বসানোর আশঙ্কায় মাত্র সাত বছরের এক শিশুকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠল তার সৎ মায়ের বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের বৈষ্ণবনগর থানার পুরাতন ১৮ মাইল এলাকায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহত শিশুর নাম নিহান আহমেদ (৭)। সে ফরাক্কা থানার খেজুরিয়াঘাট আবাসিক মিশনে প্রথম শ্রেণিতে পড়ত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নিহানের জন্মদাত্রী মা নাসরিন খাতুন। এরপর পেশায় ব্যবসায়ী বাবা ইজাজ আহমেদ বছর দুয়েক আগে রুমা খাতুন নামে এক মহিলাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। রুমা ও ইজাজের বর্তমানে ছয় মাসের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই নিহানের ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাতেন রুমা। নিহান যাতে বাবার সম্পত্তির অংশ না পায়, সেই আক্রোশ থেকেই এই চরম পথ বেছে নেওয়া হয়েছে বলে অনুমান। শিশুটিকে হস্টেলে রেখে পড়ানোর পরিকল্পনাও করছিল পরিবার।
অভিযোগ, শুক্রবার রাতে ভাড়া বাড়িতে নিহানকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। শনিবার সকালে শিশুটিকে নিথর অবস্থায় উদ্ধার করে বেদরাবাদ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহানের মামা কিসমত আলির দাবি, “মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই ওকে সহ্য করতে পারত না রুমা। শিশুটির গলায়, মুখে ও নাকে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। গলার ক্ষত ঢাকার চেষ্টাও করা হয়েছিল।” ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন নিহানের বাবা ইজাজ আহমেদও। তিনি নিজের স্ত্রীর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্ত মহিলার বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ চালানো হয় এবং ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে বৈষ্ণবনগর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মৃত শিশুর মামার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রুমা খাতুনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং একটি খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।