আর কোনো অজুহাত নয়! ডিপফেক ও ভুয়ো খবর রুখতে মেটার ওপর চাবুক কেন্দ্র, হতে পারে আইনি পদক্ষেপও

প্ল্যাটফর্মে ডিপফেক, প্রোপাগান্ডা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের দাপট রুখতে মেটার (Meta) ওপর আর কোনো শিথিলতা দেখাতে নারাজ ভারত সরকার। কোনো অজুহাত না শুনে এবার সরাসরি টেক-জায়ান্ট মেটাকে তাদের অ্যালগরিদম বদলানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)। একই সঙ্গে, প্ল্যাটফর্ম থেকে কীভাবে বেআইনি ও বিকৃত কনটেন্ট পুরোপুরি মুছে ফেলা হবে, তার একটি বিস্তারিত অ্যাকশন প্ল্যান বা ‘কমপ্লায়েন্স রোডম্যাপ’ জমা দিতে বলা হয়েছে।
মেটাকে দেওয়া প্রধান নির্দেশাবলী:
- অ্যালগরিদমে সংস্কার: ভুয়ো খবর ও ডিপফেক দ্রুত ধরে ফেলার জন্য অ্যালগরিদম ব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে।
- দ্রুত পদক্ষেপ ও ডেটা লোকালাইজেশন: সরকার বা অনুমোদিত সংস্থা কোনো বিতর্কিত কন্টেন্ট চিহ্নিত করা মাত্রই তা দ্রুত সরাতে হবে। পাশাপাশি, ভারতের ‘ডেটা-লোকালাইজেশন’ বা তথ্য স্থানীয়করণের কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হবে।
- কুইক রেসপন্স টিম: বিকৃত ছবি ও ভিডিও রুখতে সরকারের বিশেষ ‘কুইক রেসপন্স টিম’-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে।
আইনি পদক্ষেপের পথে সরকার?
কেন্দ্র ও মেটার সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রযুক্তি সংস্থাটি তাদের কনটেন্ট ফিল্টারিং ব্যবস্থার ফাঁকফোকর মেনে নিয়েছে এবং নতুন প্রযুক্তি আনার আশ্বাস দিয়েছে। তবে কেন্দ্র এখানেই থামছে না। আইটি আইনের ‘ইন্টারমিডিয়ারি’ (Intermediary) নির্দেশিকা মেটা ঠিকমতো মানছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খতিয়ান পাওয়ার পর মেটার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিচ্ছে মন্ত্রক।
ঝামেলার মূল সূত্রপাত কোথায়?
সম্প্রতি ভারতের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর করা একটি ফেসবুক পোস্ট হঠাৎ করেই সরিয়ে দেয় মেটা। ওই পোস্টে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে মেটা এটিকে ‘কারিগরি ত্রুটি’ বলে ক্ষমা চায় এবং পোস্টটি ফিরিয়ে আনে। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি। এরপরই মেটার শীর্ষ কর্তাদের তলব করা হয়। দুই পক্ষ আলোচনায় রাজি হলেও, ভারতের উদ্বেগের সম্পূর্ণ নিরসন না হওয়া পর্যন্ত ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের ওপর সরকারের এই কড়া নজরদারি জারি থাকবে।