‘পোশাক নয়, চরিত্র বদলান!’ তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট নিয়ে বিজেপি কর্মীদের শমীকের চরম হুঁশিয়ারি

‘পোশাক নয়, চরিত্র বদলান!’ তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট নিয়ে বিজেপি কর্মীদের শমীকের চরম হুঁশিয়ারি

রাজ্যে একের পর এক তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট-রাজের অভিযোগ সামনে আসতেই দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় সরব হন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজেপিতে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা শৃঙ্খলাভঙ্গ মেনে নেওয়া হবে না। দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “মানুষ কেবল পোশাক বদলের জন্য বিজেপিকে ভোট দেননি; তাঁরা চরিত্র ও কাজের আসল পরিবর্তন দেখতে চেয়েছেন।”

শমীক ভট্টাচার্য আরও জানান, ক্ষমতায় আসার পর দলের কর্মী-নেতাদের আচরণে যেন পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোনো ছাপ না থাকে। বিশেষ করে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে বিজেপি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করবে। দলবদল করে নতুন আসা কিছু কর্মী যদি পুরনো বাজে অভ্যাস বজায় রাখেন, তবে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

দলে ‘তৃণমূলীকরণ’ ঠেকানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন:

  • প্রাক্তন তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দলের কিছু নেতার ঘনিষ্ঠতা অনুচিত।
  • ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে।
  • জনরোষের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি ‘ডিম থেরাপি’-র মতো ঘটনার উল্লেখ করেন এবং সতর্ক করেন যে, জনবিরোধী কাজের ফল কর্মীদেরই ভুগতে হবে।

🏛️ নবান্নের বৈঠক ও প্রশাসনিক অবস্থান

অন্য দিকে, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জী দাবি করেছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তোলাবাজি বন্ধে নতুন বিজেপি কর্মীদের আসনভিত্তিক তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।

নবান্নের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে সূত্র মারফত জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনের পর তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া একাংশ কর্মী এখনও বেআইনি টাকা দাবি ও আর্থিক চাপ সৃষ্টির মতো পুরনো অভ্যাসে লিপ্ত।

ঋতব্রত ব্যানার্জীর মতে, মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—আইন সবার জন্য সমান। নির্দিষ্ট প্রমাণসহ তালিকা জমা পড়লেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *