দুই বছর পর আরজি করের ‘মুখেরা’: কেউ জেলে, কেউ সাসপেন্ড, সরকার বদলেও অটুট স্বাস্থ্যসচিব!

দুই বছর পর আরজি করের ‘মুখেরা’: কেউ জেলে, কেউ সাসপেন্ড, সরকার বদলেও অটুট স্বাস্থ্যসচিব!

আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসাকাজে যুক্ত তরুণীর মর্মান্তিক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ দুই বছর। এই সময়ের মধ্যে রাজ্যের রাজনীতিতে পালাবদল ঘটেছে, বদলেছে সরকারের মুখ। কিন্তু এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ব্যক্তিরা—যাঁরা হয় বিচারের দাবি তুলেছিলেন, নয়তো অভিযুক্ত ও প্রশাসনিক পদে ছিলেন—তাঁরা আজ কে কোথায়?

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক আরজি কর-কাণ্ডের প্রধান মুখগুলির বর্তমান অবস্থান:

  • সঞ্জয় রায় (একমাত্র সাজাপ্রাপ্ত অভিযুক্ত): শিয়ালদহ আদালতের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও হাইকোর্টের রায় বহাল থাকার পর সঞ্জয় এখন প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি। সিবিআই তাকে একমাত্র অভিযুক্ত বললেও নির্যাতিতার পরিবার দাবি করছে সে একা নয়। আদালতের নির্দেশে সিবিআই নতুন তদন্তকারী দল গঠন করে ফের তদন্ত চালাচ্ছে। জেলে নিজের অসংলগ্ন আচরণ ও উগ্র স্বভাবের জন্য পরিচিত সঞ্জয় নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করছে।
  • সন্দীপ ঘোষ (আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ): দুর্নীতি মামলায় জেলে থাকা সন্দীপকে নতুন সরকার বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার ছাড়পত্র দিয়েছে। তবে ধর্ষণ-হত্যাকাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে জামিন পেয়েছিলেন তিনি।
  • বিনীত গোয়ল (তৎকালীন পুলিশ কমিশনার): আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে লালবাজার থেকে সরালেও পূর্বতন সরকারের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। রাজ্য রাজনৈতিক পালাবদলের পরপরই বিনীতকে সাসপেন্ড করা হয়। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে।
  • ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় ও অভিষেক গুপ্ত (আইপিএস আধিকারিক): আন্দোলনের সময় কলকাতা পুলিশের ‘মুখ’ হওয়া ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং এলাকা সামলানোর দায়িত্বে থাকা ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্ত—উভয়কেই নতুন সরকার সাসপেন্ড করে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে।
  • অভিজিৎ মণ্ডল (টালা থানার তৎকালীন ওসি): সিবিআই নির্দিষ্ট ৯০ দিনে চার্জশিট পেশ না করায় জামিনে মুক্ত হলেও এখনও তিনি সাসপেন্ডেড।
  • নারায়ণস্বরূপ নিগম (স্বাস্থ্যসচিব): জুনিয়র চিকিৎসকদের তীব্র আন্দোলন, এমনকী রাজ্যে সরকার বদল হওয়ার পরেও নিজের পদে অনড় ও বহাল রয়েছেন স্বাস্থ্যসচিব নিগম।
  • রিমঝিম সিংহ (রাত দখলের আহ্বায়ক): আন্দোলন থামেনি, তবে রূপ বদলেছে। প্রেসিডেন্সির প্রাক্তন ছাত্রী রিমঝিম ‘রাত দখল, দিন বদল’ সংগঠন তৈরি করে এখন গৃহ শ্রমজীবী নারীদের অধিকার নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
  • ডাঃ সুবর্ণ গোস্বামী (সিনিয়র চিকিৎসক): আন্দোলনকালে তৎকালীন সরকারের একাধিক মামলার মুখাপেক্ষী হতে হয়েছিল তাঁকে। বদলি করা হয়েছিল দার্জিলিংয়ে। ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও তিনি আজও পাহাড়ে বদলি অবস্থাতেই রয়ে গিয়েছেন এবং দূর থেকেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
  • ডাঃ অনিকেত মাহাতো (আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসক): জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত ৩০ লক্ষ টাকা জমা দিয়ে বন্ড মুক্ত হয়েছেন। তিনি মনে করেন সঞ্জয় রায় একা এই ঘটনা ঘটায়নি। ডাক্তারি ফোরাম থেকে আলাদা হলেও ‘থ্রেট কালচার’-এর বিরুদ্ধে এখনও নিজের মতো লড়াই করছেন।

দুই বছর কেটে গেলেও আরজি করের ন্যায়বিচারের দাবি এবং তার অনুঘটন এখনও সাধারণ মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *