‘ভারতে থেকে জাতীয় প্রতীকের অবমাননা নয়!’ স্বাধীনতা দিবসের আগে কঠোর হুঁশিয়ারি যোগীর

‘ভারতে থেকে জাতীয় প্রতীকের অবমাননা নয়!’ স্বাধীনতা দিবসের আগে কঠোর হুঁশিয়ারি যোগীর

লখনউ: দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস এবং ঐতিহাসিক কাকোরি ট্রেন অ্যাকশনের ১০১তম বার্ষিকীকে সামনে রেখে লখনউয়ে এক বিশাল ‘তেরঙা যাত্রা’র সূচনা করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এই কর্মসূচির মঞ্চ থেকেই এক কড়া বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান— ভারতে বসবাস করে দেশের জাতীয় প্রতীক, জাতীয় সংগীত, রাষ্ট্রীয় গান কিংবা মহাপুরুষদের অবমাননা করার অধিকার কাউকেই দেওয়া হবে না।

তেরঙা যাত্রা ও প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রশংসা

রবিবার সকালে মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘৫, কালিদাস মার্গ’ থেকে বিধান ভবন পর্যন্ত আয়োজিত এই পদযাত্রার সামনের সারিতে ছিলেন খোদ যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর সঙ্গে পা মেলান উত্তরপ্রদেশ বিজেপির সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী, দুই উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য ও ব্রজেশ পাঠক এবং প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার তরুণ-তরুণী। লখনউয়ের রাজপথ এ দিন ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূয়সী প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,

“প্রধানমন্ত্রী দেশের জাতীয় প্রতীকগুলির মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি করেছেন এবং জাতীয় সংগীত বা গান অবমাননাকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। তেরঙা আমাদের দেশের সরলতা, বিকাশ এবং ‘আন, বান ও শান’-এর প্রতীক।”

কাকোরি বিপ্লবীদের স্মরণ ও ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর

১৯২৫ সালের কাকোরি ট্রেন অ্যাকশনের স্মৃতি তর্পণ করে রাম প্রসাদ বিসমিল, ঠাকুর রোশন সিং এবং আসফাকউল্লাহ খানের মতো অমর সংগ্রামীদের শ্রদ্ধা জানান যোগী। পাশাপাশি স্বাধীনতার পর দেশের সুরক্ষায় প্রাণ দেওয়া শহীদ জওয়ানদের প্রতিও তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এ বছর জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপিত হচ্ছে, যা এই সময়টিকে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। যুবসমাজকে দেশের অদম্য শক্তির উৎস বলেও বর্ণনা করেন তিনি।

‘হর ঘর তেরঙা’ ও কংগ্রেসকে তোপ

১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে রাজ্যবাসীকে ‘হর ঘর তেরঙা’ অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে কংগ্রেসকে নিশানা করে তিনি বলেন, একসময় সাধারণ মানুষকে নিজের বাড়িতে তেরঙা উত্তোলনের অধিকারের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে হতো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদী আজ দেশের ১৪০ কোটি নাগরিককে গর্বের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সংবিধান প্রণেতা ড. বি আর আম্বেদকর, দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ এবং সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের স্মৃতির প্রতিও শ্রদ্ধা জানান যোগী আদিত্যনাথ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *