টয়লেটে মোবাইল নিচ্ছেন? সতর্ক না হলে বাসা বাঁধতে পারে প্রাণঘাতী ‘সুপার-বাগ’!

টয়লেট সিটে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাতে মোবাইল ফোন স্ক্রোল করছেন? সাবধান! আপনার এই দৈনন্দিন বদ-অভ্যাসই কিন্তু বড় কোনো শারীরিক অসুস্থতার কারণ হতে পারে। সম্প্রতি ভারত, ব্রিটেন ও গবেষণায় যুক্ত ২৪টি দেশের প্রাপ্তবয়স্ক মোবাইল ব্যবহারকারীদের ওপর চালানো এক যৌথ সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
গবেষকদের মতে, সমীক্ষায় দেখা গেছে প্রায় ৫৭% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষই বাথরুমে ফোন ব্যবহার করেন। কিন্তু আসল বিপদ লুকিয়ে রয়েছে টয়লেটের ফ্লাশে!
কেন এত ঝুঁকিপূর্ণ?
- ফ্লাশের অদৃশ্য ড্রপলেট: টয়লেট সিট ফ্লাশ করার পর মাত্র ৮ সেকেন্ডের মধ্যে প্রায় ৫ ফুট পর্যন্ত অদৃশ্য জীবাণু ও নোংরা ড্রপলেট বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
- সুপার-বাগের আক্রমণ: এই প্রক্রিয়ায় ই-কোলি (E. coli) বা সালমোনেলা (Salmonella)-র মতো বিপজ্জনক ‘সুপার-বাগ’ বাথরুমের দরজা, মেঝে, বেসিন এবং সরাসরি আপনার প্রিয় ফোনের গায় এসে আটকে যায়।
- পরোক্ষ বিষক্রিয়া: এই মারাত্মক জীবাণুযুক্ত ফোন ধরে খাওয়ার সময় সেই সংক্রমণ সোজা পেটে চলে যায়, যা থেকে গ্যাস্ট্রিক, তীব্র পেটের রোগ এমনকি প্রাণহানির ঝুঁকিও তৈরি হয়।
সংক্রমণের আসল কারণ ও অসচেতনতা: ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা জানাচ্ছেন, বাথরুম থেকে বেরিয়ে আমরা সাবান দিয়ে হাত ধোলেও মাত্র ৮% মানুষ ফোনটি পরিষ্কার বা স্যানিটাইজ করেন! ফলে হাতে সাবান দিলেও ফোনে আটকে থাকা ব্যাকটেরিয়া ফের আপনার হাতেই চলে আসে। অফিস, হাসপাতাল বা পাবলিক টয়লেটে এই সংক্রমণের মাত্রা প্রায় ১০ গুণ বেশি। এছাড়া স্ট্যাফাইলোমোক্কি-র মতো ব্যাকটেরিয়া থেকে ত্বকের নানা চর্মরোগও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও করণীয়:
- বাথরুমে ফোন নয়: বাথরুমে বা টয়লেট সিটে মোবাইল নিয়ে যাওয়ার অভ্যাস আজই ত্যাগ করুন।
- ফোন স্যানিটাইজ করুন: বাথরুম থেকে বের হওয়ার পর হাত ধোয়ার পাশাপাশি অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বা অ্যান্টি-সেপটিক টিস্যু দিয়ে ফোনটি ভালো করে মুছে নিন।
- শিশুদের সুরক্ষা: নোংরা ও স্যানিটাইজ না করা ফোন কখনোই শিশুদের হাতে দেবেন না, কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।