“ভাড়াও দিচ্ছেন না, বাড়িও ছাড়ছেন না!” বিধায়ক রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে সাধু

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে দুর্নীতি ও জবরদখলের বিরুদ্ধে কড়া ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হলেও, এবার এক বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে উঠেছিল জমি ও বাড়ি দখলের মারাত্মক অভিযোগ। অভিযুক্ত হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্র।
ঘটনার সূত্রে প্রকাশ, বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের জন্য উত্তর ২৪ পরগনার লেবুখালিতে স্বামী কেশবানন্দ মহারাজের ‘কেশবানন্দ প্যালেস’-এর ১২টি ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন রেখা পাত্র। কিন্তু অভিযোগ, নির্বাচন শেষ হয়ে দীর্ঘদিন কেটে গেলেও তিনি সেই বাড়ি ছাড়ছেন না এবং ভাড়াও দিচ্ছেন না। উপায়ান্তর না দেখে শেষমেশ সুবিচারের আশায় মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবারে’ গিয়ে সরাসরি লিখিত অভিযোগ জানান কেশবানন্দ মহারাজ।
অভিযোগকারীর বক্তব্য:
“আমি বিজেপির সমর্থক বলেই বিশ্বাস করে মার্চ মাসে চার বিঘে জমির ওপর থাকা তিনতলা বাড়িটি ওঁকে দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রথম দু’মাসের (মার্চ ও এপ্রিল) পর আর কোনো ভাড়া দেওয়া হয়নি। ১ কোটি ২৫ লাখ টাকায় বাড়িটি কিনে নেওয়ার কথা থাকলেও তা কেনা হয়নি, উল্টে বাড়ি ছাড়তে বললে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে।”
বিধায়কের পাল্টা সাফাই:
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিধায়ক রেখা পাত্র। তাঁর দাবি, “পা ভেঙে যাওয়ার কারণে আমি কয়েক মাস বিধানসভায় যেতে পারিনি, ফলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় আমার বেতন বন্ধ ছিল। আমি মহারাজকে জানিয়েছিলাম বেতন চালু হলেই ওঁর সব বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে। আমাকে হেয় করতেই এই মিথ্যা রটনা করা হচ্ছে।”
অন্যান্য জবরদখলের নালিশ:
অন্যদিকে, এদিনের জনতার দরবারে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধেও একই ধরণের অভিযোগ নিয়ে উপস্থিত হন পাঁচজন মহিলা। তাঁদের দাবি, হাওড়ার কোনা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে থাকা তাঁদের প্রায় ২২ কাঠা জমি ভয় দেখিয়ে ও হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছে। জমি ফেরতের দাবিতে তাঁরাও মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।