‘বন্দে মাতরম’ অবমাননায় এবার জেল-জরিমানা! রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরে কার্যকর নতুন আইন

দেশের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর মর্যাদা রক্ষায় এক ঐতিহাসিক ও কঠোর পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। গত জুলাই মাসে সংসদের বাদল অধিবেশনে দুই কক্ষে পাশ হওয়া ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’-এ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। রাষ্ট্রপতির এই সিলমোহরের সাথেই বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হলো।
নতুন আইনে কী কী থাকছে?
নতুন এই আইনের মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’-এর সমান মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
- অপরাধ: এখন থেকে জনসমক্ষে ইচ্ছাকৃতভাবে এই গান গাওয়া বন্ধ করা, বাধা দেওয়া বা গান চলাকালীন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা গুরুতর অপরাধ বলে গণ্য হবে।
- প্রথমবার অপরাধের শাস্তি: সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড, আর্থিক জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
- পুনরায় অপরাধের শাস্তি: একই ব্যক্তি দ্বিতীয়বার বা তার বেশি বার এই অপরাধ করলে, তাঁর জন্য ন্যূনতম ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
শুরু তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক, প্রশ্ন শশী থারুরের
আইনটি কার্যকর হতেই জাতীয় রাজনীতিতে জোর চর্চা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ‘বন্দে মাতরম’ গানের প্রতিটি অনুচ্ছেদ সম্পূর্ণ গাওয়ার সরকারি নির্দেশিকার তীব্র বিরোধিতা করেছেন কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ শশী থারুর।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন— “আইন জোর করে চাপিয়ে দিয়ে কি মানুষের মনে ভক্তি বা দেশপ্রেম জাগানো সম্ভব?”
থারুরের অভিযোগ, সংসদে কোনো উপযুক্ত আলোচনা ছাড়াই তাড়াহুড়ো করে এই বিল পাশ করানো হয়েছে। তিনি হিসাব দিয়ে জানান:
- জাতীয় সংগীত গাইতে সময় লাগে ৫২ সেকেন্ড।
- অন্যদিকে ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ ৬টি অনুচ্ছেদ গাইতে সময় লাগবে ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড।
তাঁর মতে, যেকোনো সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত, জাতীয় গান এবং রাজ্য স্তরের গান মিলিয়ে শ্রোতাদের প্রায় ৬ থেকে ১২ মিনিট একটানা দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ক্লান্তিকর ও অবাস্তব। সব মিলিয়ে, এই নতুন আইনকে কেন্দ্র করে এখন উত্তপ্ত দেশের রাজনৈতিক মহল।