“আইন সবার জন্য সমান”—নেতাজি অবমাননায় কড়া রাজ্য, গ্রেফতারির নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

নবান্ন: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার ও কুৎসা রটানোর ঘটনায় এবার কঠোর অবস্থান নিল রাজ্য প্রশাসন। বুধবার নবান্নে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেশনায়ককে কোনোভাবেই আসাম্মান করা সহ্য করা হবে না এবং এ বিষয়ে কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজকে ঘিরে রাজনৈতিক অলিন্দে জল্পনা ও চাপানউতোর তীব্র হয়েছে।
বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক ও পুলিশকে কড়া নির্দেশ
এদিন উত্তরবঙ্গের একদল বিজেপি বিধায়ক ও মন্ত্রী (যার মধ্যে ছিলেন আনন্দময় বর্মণ, দীপক বর্মণ, নিশীথ প্রামাণিক এবং মালতী রাভা রায়) নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতাজির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
বৈঠক শেষেই রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের—ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) অজয় রানাডে এবং সাইবার সেলের ডিজি সঞ্জয় সিংকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্নের স্পষ্ট বার্তা:
- ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করে দ্রুত গ্রেফতারি প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
- কেউ সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আপত্তিকর পোস্ট মুছে দিলেও আইনি পদক্ষেপ থেকে ছাড় পাবেন না।
“আইন সবার জন্য সমান”
অনন্ত মহারাজের বিতর্কিত মন্তব্য সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি আলাদা করে কারও নাম বলছি না। কাউকে হিরো বা জিরো বানানোর ইচ্ছে আমার নেই। তবে আইন সবার জন্য সমান। অপরাধী মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, সাধারণ নাগরিক কিংবা পুলিশ—যেই হোক না কেন, আইন তার নিজের পথেই চলবে।”
নেতাজিকে সম্মান জানিয়ে জোড়া বড় ঘোষণা
নেতাজির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এদিন দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার:
- রাজ্যের সমস্ত ‘বিধায়ক সেবা কেন্দ্র’-এর নাম বদলে রাখা হচ্ছে ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র’।
- রাজ্যের প্রতিটি সরকারি স্কুল ও দপ্তরে নেতাজির ছবি টাঙানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নেতাজির পরিবারের অনুমোদন নিয়ে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর ইতিমধ্যেই এই নির্দেশিকা জারি করেছে।
জঙ্গি দমন ও আসামের বন্যায় সাহায্য
সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি এসটিএফ (STF)-এর হাতে জঙ্গি গ্রেফতার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অতীতে শিথিলতার সুযোগে বাংলাকে নিরাপদ করিডর হিসেবে ব্যবহার করা হতো। তবে এখন রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে এবং এই দমনপীড়ন আরও কঠোর হবে। এর পাশাপাশি, আসামে ভয়াবহ প্লাবনের জন্য রাজ্যের পক্ষ থেকে ১০ কোটি টাকার ত্রাণ সাহায্য পাঠানোর কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।