“আইন মানুন, নয়তো সুপ্রিম কোর্টে যাব!” স্পিকারের দরবারে কড়া মেজাজে তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

“আইন মানুন, নয়তো সুপ্রিম কোর্টে যাব!” স্পিকারের দরবারে কড়া মেজাজে তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা / নয়াদিল্লি: দলত্যাগ বিরোধী আইনে ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে চিঠি দেওয়ার দু’মাস কেটে গেলেও কেন কোনো পদক্ষেপ করা হলো না—এই জোরালো প্রশ্ন তুলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

অভিষেকের দুটি প্রধান আপত্তি ও অসন্তোষ:

১. দলত্যাগ বিরোধী আইনে নিষ্ক্রিয়তা: তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়ে গত জুন মাসেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে পৃথক ২০টি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। জুলাই মাসেও স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেন অভিষেক। কিন্তু দুই মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।

২. বিনা আবেদনে আসন পরিবর্তন: কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুরোধ বা আবেদন না থাকা সত্ত্বেও কেন তৃণমূল সাংসদদের আসন পরিবর্তন করা হলো, তা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান অভিষেক। বিশেষ করে তাঁকে প্রথম সারি থেকে সরিয়ে দ্বিতীয় সারিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে তিনি সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

স্পিকারের আশ্বাস ও অভিষেকের সুপ্রিম-হুঁশিয়ারি: বৈঠক শেষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, স্পিকার তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন যে আগামী শীতকালীন অধিবেশনের আগেই এই সমস্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে এই দীর্ঘসূত্রতায় অসন্তোষ প্রকাশ করে অভিষেক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে দলত্যাগ সংক্রান্ত বিষয়গুলির নিষ্পত্তি করা উচিত। স্পিকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেন, তবে তৃণমূল কংগ্রেস ফের সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নাড়তে বাধ্য হবে। তাঁর দাবি পরিষ্কার—হয় এনসিপিআই-কে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক মান্যতা দেওয়া হোক, নয়তো দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

রাজনীতিতে জোর তরজা: এই ঘটনাকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে। তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন, বিষয়টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া স্পিকারের এক্তিয়ারভুক্ত এবং নথিপত্র যাচাইয়ের আইনি প্রক্রিয়ার জন্যই হয়তো কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ লোকসভার স্পিকারের এক্তিয়ারধীন বিষয়, তাই সিদ্ধান্ত তাঁর ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত।

এখন দেখার, শীতকালীন অধিবেশনের আগে স্পিকার ওম বিড়লা এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *