মার্কিন রাডারে ভারত! শুল্ক ফাঁকির জালিয়াতিতে নাম জড়াল গুজরাত-পুণে-চেন্নাইয়ের?

রাশিয়ার থেকে তেল কেনা নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই আমেরিকার সঙ্গে ভারতের এক নতুন কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক জট তৈরি হয়েছে। চিনের ওপর মার্কিন প্রশাসনের চড়া শুল্ক এড়াতে ‘ঘুরপথে’ চিনা পণ্য আমেরিকায় পাঠানোর অভিযোগে উঠে এসেছে ভারতের নাম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারোর মন্তব্য এবং হোয়াইট হাউসের একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টকে ঘিরে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে নতুন চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
‘শ্যাডো ট্রান্স-শিপমেন্ট’ বা গোপন বাণিজ্যের কৌশল: আমেরিকার দাবি অনুযায়ী, চিনের ওপর অতিরিক্ত ট্যাক্স এড়াতে চিনা সংস্থাগুলি সরাসরি পণ্য আমেরিকায় না পাঠিয়ে তা প্রথমে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠাচ্ছে। সেখানে সামান্য প্যাকেজিং বা লেবেল বদলে সেটিকে সেই দেশের তৈরি পণ্য হিসেবে আমেরিকায় রপ্তানি করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন একেই ‘শ্যাডো ট্রান্স-শিপমেন্ট’ বলছে, যার ফলে আমেরিকা বিপুল পরিমাণ শুল্ক হারাচ্ছে। হোয়াইট হাউস রিপোর্টের দাবি, প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য এভাবে ঘোরানো হয়েছে। এই তালিকায় ভারতের পাশাপাশি কানাডা, মেক্সিকো, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো ৪০টিরও বেশি দেশ মার্কিন রাডারে রয়েছে।
ভারতের যে অঞ্চলগুলির নাম উঠে এসেছে: রিপোর্টে ভারতের গুজরাত, পুণে এবং চেন্নাইয়ের মতো প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেখানকার সমস্ত ব্যবসা বেআইনি নয়; মূল লক্ষ্য হলো পণ্যের আসল উৎস লুকানোর প্রবণতা চিহ্নিত করা। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ‘রুলস অফ অরিজিন’ বা পণ্যের উৎস যাচাই ব্যবস্থা আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দিয়েছে আমেরিকা।
রাশিয়ার তেল নিয়ে দ্বিগুণ চাপ: চিন সংক্রান্ত এই বিতর্কের পাশাপাশ মোদী সরকারের ওপর রুশ তেল কেনা নিয়েও আমেরিকার চাপ বহাল রয়েছে। ভারতের মোট তেল আমদানির অর্ধেকের বেশি রাশিয়া থেকে আসায় মার্কিন সেনেটে রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতাদের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর প্রস্তাব আলোচনাধীন। একদিকে মার্কিন শুল্কের কড়াকড়ি এবং অন্যদিকে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা—এই দুইয়ের মাঝে ভারসাম্য রাখাই এখন দিল্লির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।