ধনী হওয়ার আগেই কি ‘বুড়ো’ হচ্ছে দেশ? ২০৫০ সালের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট ঘিরে বড় দুঃসংবাদ!

ধনী হওয়ার আগেই কি ‘বুড়ো’ হচ্ছে দেশ? ২০৫০ সালের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট ঘিরে বড় দুঃসংবাদ!

ভারতের দ্রুত পরিবর্তনশীল ডেমোগ্রাফিক চিত্র নিয়ে এক উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এনেছে ট্রান্সফর্ম রুরাল ইন্ডিয়া (টিআরআই)-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষা। ‘ডেমোগ্রাফিক ট্রানজিশন, ইভলভিং ফ্যামিলিস অ্যান্ড দ্য ফিউচার অফ দ্য কেয়ার ইকোসিস্টেম ইন রুরাল ইন্ডিয়া’ শীর্ষক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের প্রতি পাঁচ জন শহুরে নাগরিকের এক জন এবং গ্রামাঞ্চলে প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে সাত জনের বয়স ষাট স্পর্শ করবে। অর্থাৎ, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৩৪.৭ কোটিতে। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের শেষে এক জন বয়স্ক মানুষকে দেখাশোনার জন্য কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের অনুপাত কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫.২-তে, যা ২০০১ সালে ছিল ৮.৪। প্রবীণদের দীর্ঘায়ু হলেও এবং ৯৪ শতাংশ বয়স্কের দায়িত্ব পরিবার সামলালেও, ছোট পরিবার ও তরুণ প্রজন্মের পরিযানের কারণে এই পরিষেবা ব্যবস্থা চরম সঙ্কটের মুখে পড়ছে।

সমীক্ষায় মহিলাদের বেতনহীন পারিবারিক শ্রমের বিষয়টিও ফুটে উঠেছে—যেখানে একজন নারী দিনে গড়ে ৩০৫ মিনিট বিনা পারিশ্রমিকে সংসার সামলান, সেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সময় মাত্র ৫৬ মিনিট। এছাড়া দেশে মোট মৃত্যুর দুই-তৃতীয়াংশের কারণ ডায়াবিটিস, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো অসংক্রামক ব্যাধি। দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যা, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও বার্ধক্যজনিত পরিষেবার চাহিদা মেটাতে টিআরআই অবিলম্বে একটি ‘নেবারহুড অফ কেয়ার’ মডেল গড়ে তোলার সুপারিশ করেছে। এই সঙ্কট মোকাবিলায় গ্রাম পঞ্চায়েত, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ও আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের যৌথ অংশীদারিত্বকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে একটি সুস্থ ও টেকসই পরিচর্যা ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তোলা যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *