বাংলাদেশের মুখোশে দেদারসে ঢুকছে বিদেশি সুপারি! আড়াই হাজার কোটির বড়সড় জালিয়াতি ফাঁস হতেই শোরগোল

বাংলাদেশের মুখোশে দেদারসে ঢুকছে বিদেশি সুপারি! আড়াই হাজার কোটির বড়সড় জালিয়াতি ফাঁস হতেই শোরগোল

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে দেদারসে নিম্নমানের সুপারি এনে তা বাংলাদেশে তৈরি বলে ভারতীয় বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার এক বিশাল জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস করল ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (DRI)। তদন্তে জানা গিয়েছে, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া থেকে আনা সুপারিকে খাতা-কলমে বাংলাদেশের পণ্য হিসেবে দেখানো হচ্ছিল। সাউথ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড এরিয়া বা ‘সাফটা’ (SAFTA) চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ থেকে সুপারি আমদানিতে সম্পূর্ণ শুল্ক ছাড় মেলে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ১০০ শতাংশ বেসিক কাস্টমস ডিউটি ফাঁকি দিচ্ছিল পাচারকারীরা। গত কয়েক বছরে এই বেআইনি আমদানির কারণে সরকারি কোষাগারের ২,৫০০ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। টানা কয়েক মাস তল্লাশি চালিয়ে এই আন্তর্জাতিক চক্রান্তে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

শুল্কমুক্ত বিদেশি সুপারিতে বাজার ছেয়ে যাওয়ায় চরম সঙ্কটের মুখে পড়েছেন ভারতের দেশীয় সুপারি চাষি ও বৈধ ব্যবসায়ীরা। অসাধু উপায়ে অত্যন্ত সস্তা দামে এই সুপারি বাজারে ঢোকায় প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে পড়ছেন স্থানীয় উৎপাদকরা, যার ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে দামে মারাত্মক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স জানিয়েছে, এই অবৈধ বাণিজ্য একদিকে যেমন দেশের অর্থনীতিকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকদের জীবনজীবিকা ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ভারতীয় সুপারি শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা এবং কর ফাঁকি রুখতে এই পাচারচক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে এখন কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *