দাবদাহে জ্বলছে জার্মানি: প্রকৃতির তাণ্ডবে দিশেহারা দেশ, তুঙ্গে সরকারবিরোধী ক্ষোভ!

ভয়াবহ জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে জার্মানি। তীব্র গ্রীষ্মে দেশটির বিভিন্ন গ্রামের বনাঞ্চলে দাবদাহের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। ফসলহানির পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টনে গিয়ে ঠেকেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষ খাতে। একই সাথে হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে অসহনীয় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে রোগী ও প্রবীণদের স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বহু এলাকা খালি করতে বাধ্য হচ্ছে প্রশাসন।
এই মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ে জার্মান সরকারের ভূমিকা নিয়ে চরম সমালোচনা শুরু হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন ‘লাস্ট জেনারেশন’-এর জলবায়ু কর্মী লার্স ভের্নার এবং ‘ফ্রাইডেজ ফর ফিউচার’-এর মুখপাত্র লিন্ডা কাস্ট্রুপ অভিযোগ করেছেন যে, আগাম সতর্কতা সত্ত্বেও সরকার কোনো কার্যকর ‘তাপ সম্মেলন’ বা দীর্ঘমেয়াদী নীতি গ্রহণ করেনি। তাদের মতে, ছোটখাটো নিয়মনীতি পরিবর্তন করে সরকার কেবল দায় এড়ানোর লোক-দেখানো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ২০১৯ সালে যেখানে বার্লিনের রাজপথে লাখ লাখ মানুষ জলবায়ু সুরক্ষার দাবিতে আন্দোলন করেছিল, বর্তমানে সেই রাজপথে বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি হাতে গোনা। ব্যার্টেলসমান ফাউন্ডেশনের গবেষণা অনুযায়ী, দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ জলবায়ু নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও কোভিড মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ‘এএফডি’ (AfD)-র বিরোধিতার কারণে সাধারণ মানুষের রাজপথে নামার প্রবণতা অনেকটাই কমে গেছে।
একই সাথে, সরকারের অভ্যন্তরীণ বিরোধও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পরিবেশমন্ত্রী কার্স্টেন শ্নাইডার দাবদাহ মোকাবিলার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যস্তরে যৌথ উদ্যোগের কথা বললেও, জোট শরিক সিডিইউ-সিএসইউ (CDU-CSU) আইনি জটিলতার অজুহাতে তাতে বাধা দিচ্ছে। তদুপরি, ২০৪৫ সালের মধ্যে জার্মানিকে জলবায়ু-নিরপেক্ষ করার যে লক্ষ্য ছিল, চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের সাম্প্রতিক বক্তব্যে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, জার্মানি একাকী জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে পারবে না—যা সমালোচকদের মতে বৈশ্বিক এই সংকট থেকে সরকারের পিছু হটার একটি অজুহাত মাত্র।