কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার অ্যাঞ্জিয়োপ্লাস্টি সফল, বর্তমানে স্থিতিশীল; জানুন অ্যাঞ্জিয়োপ্লাস্টি আসলে কী
ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) সর্বভারতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা (৬৬)-র দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (AIIMS Delhi)-এ সফল অ্যাঞ্জিয়োপ্লাস্টি (Angioplasty) সম্পন্ন হয়েছে।
কয়েক দিন আগে একটি পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়, তাঁর হৃৎপিণ্ডের ধমনীতে রক্ত চলাচলে বাধা বা ‘ব্লক’ তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকরা কাল বিলম্ব না করে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। AIIMS সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। তবে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাঁকে।
জেপি নাড্ডার চিকিৎসার খবর প্রকাশ্যে আসার পর সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে— অ্যাঞ্জিয়োপ্লাস্টি জিনিসটি ঠিক কী এবং কখন এটি জরুরি হয়ে পড়ে?
🩺 অ্যাঞ্জিয়োপ্লাস্টি (Angioplasty) কী?
এটি হলো এমন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি, যার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডে রক্ত নিয়ে যাওয়া ধমনী (Coronary Artery)-র সংকুচিত বা অবরুদ্ধ অংশকে প্রসারিত করে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা হয়।
ধমনীর ভেতরের দেওয়ালে চর্বি জমে ‘প্লাক’ (Plaque) তৈরি হলে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়। এর ফলে বুকে তীক্ষ্ণ ব্যথা (Angina), হাত-পা অবশ হয়ে আসা কিংবা হার্ট অ্যাটাকের মতো মারাত্মক ঘটনা ঘটতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘পারকিউটেনিয়াস কোরোনারি ইন্টারভেনশন’ (PCI)-ও বলা হয়।
⚙️ কীভাবে করা হয় এই পদ্ধতি?
১. ক্যাথেটার প্রবেশ: প্রথমে রোগীর কব্জি বা উরুর ধমনী দিয়ে একটি অত্যন্ত পাতলা নমনীয় নল (Catheter) ভেতরে পাঠানো হয়।
২. বেলুন ফোলানো: এক্স-রে ইমেজের সাহায্যে ক্যাথেটারটিকে হার্টের ব্লক থাকা স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর নলের মাথায় থাকা ছোট একটি বেলুন ফুলিয়ে চর্বি বা প্লাককে চেপে ধরে রক্ত চলাচলের পথ বড় করা হয়।
৩. স্টেন্ট বসানো: পথটি যাতে ফের সংকুচিত না হয়ে যায়, তার জন্য সূক্ষ্ম তারের তৈরি একটি রিং বা ‘স্টেন্ট’ (Stent) বসানো হয়। আধুনিক প্রযুক্তির ‘ড্রাগ-ইলিউটিং স্টেন্ট’ পরবর্তীতে রক্তনালিতে ওষুধ সরবরাহ করে পুনরায় ব্লক হওয়া আটকায়।
🔍 অ্যাঞ্জিয়োগ্রাফি ও অ্যাঞ্জিয়োপ্লাস্টির পার্থক্য
অনেকে এই দুটি পদ্ধতিকে এক মনে করলেও দুটির কাজ সম্পূর্ণ আলাদা:
- অ্যাঞ্জিয়োগ্রাফি (Angiography): এটি মূলত একটি ডায়াগনস্টিক বা পরীক্ষা পদ্ধতি। বিশেষ রঞ্জক (Dye) ও এক্স-রের মাধ্যমে জানা যায় ধমনীর ঠিক কোন স্থানে এবং কতটা ব্লক রয়েছে।
- অ্যাঞ্জিয়োপ্লাস্টি (Angioplasty): এটি পরীক্ষা নয়, সরাসরি চিকিৎসা পদ্ধতি। অ্যাঞ্জিয়োগ্রাফিতে ব্লকেজ ধরা পড়ার পর তা খোলার জন্যই অ্যাঞ্জিয়োপ্লাস্টি করা হয়।
⚠️ কখন অ্যাঞ্জিয়োপ্লাস্টির পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা?
- আকস্মিক হার্ট অ্যাটাক হলে অবরুদ্ধ ধমনী দ্রুত খুলে রক্তপ্রবাহ চালু করতে।
- ওষুধ ব্যবহারের পরও বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণে না এলে।
- হৃৎপিণ্ডের পেশিতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও রক্ত না পৌঁছালে।
🏥 এটি কি অত্যন্ত জটিল কোনো অস্ত্রোপচার?
না, এটি ‘ওপেন-হার্ট সার্জারি’র মতো জটিল বা দীর্ঘস্থায়ী নয়।
- এতে ‘লোকাল অ্যানাস্থেসিয়া’ দেওয়া হয়, অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে রোগীর জ্ঞান থাকে।
- পুরো চিকিৎসা সম্পন্ন হতে সাধারণত ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা সময় লাগে।
- সফল অ্যাঞ্জিয়োপ্লাস্টির পর রোগী সাধারণত ১ থেকে ২ দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন।