হস্টেলে মোমো-ফ্রেঞ্চ ফ্রাই পার্টি শেষ হতেই নেমে এলো চরম ট্র্যাজেডি! ২ পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যু, কাঠগড়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষ

রবিবারের আনন্দময় মুহূর্ত এক নিমেষে বদলে গেল শোকে ও আতঙ্কে। হস্টেলে ফাস্টফুড খেয়ে পার্টির পরেই উত্তরপ্রদেশের বান্দায় অকালে প্রাণ গেল দুই খুদে পড়ুয়ার। আরও এক শিশু গুরুতর অসুস্থ হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্বজনহারা পরিবার।
ঠিক কী ঘটেছিল? ঘটনাটি বান্দার ঝিল কা পুরওয়া এলাকার একটি বেসরকারি আবাসিক স্কুলের। জানা গেছে, মৃতদের মধ্যে রয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ১২ বছরের নীতিন এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ৯ বছরের শিশু অরুণ কুশওয়াহা। হস্টেলের ৩৪ জন পড়ুয়ার মধ্যে নীতিন ও অরুণ রবিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় মহেন্দ্র চকের একটি দোকান থেকে মোমো ও ফ্রেঞ্চ ফ্রাই (ফিঙ্গার চিপস) কিনে এনে খেয়েছিল।
তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি কিছুটা আলাদা। স্কুলের ম্যানেজার ওমপ্রকাশ কুশওয়াহা জানান, রাতে হস্টেলের সব পড়ুয়াই সাধারণ ডাল, রুটি ও তরকারি খেয়ে রাত ১০টা নাগাদ ঘুমাতে যায়। কিন্তু রাত ৩টে নাগাদ নীতিন পেটে প্রচণ্ড ব্যথার কথা জানায়। তার ঠিক আধঘণ্টা পর অরুণও একইভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
চিকিৎসায় দেরি ও গাফিলতির অভিযোগ: পরিবারের অভিযোগ, অসুস্থতার পরপরই যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। নীতিনকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার পর আবার হস্টেলে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সোমবার সকাল ৭টায় আবার হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে অরুণকেও ভোরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। নিহত অরুণের পরিবারের দাবি, শিশুটির অসুস্থতার খবর অনেক দেরিতে তাদের জানানো হয়েছে।
বর্তমানে চন্দ্রপাল (৮) নামের আরও এক পড়ুয়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্ত: ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। মৃত দুই শিশুর দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। এটি শুধুই ফুড পয়জনিং (খাদ্য বিষক্রিয়া) নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্কুলের রান্নাঘর ও হস্টেলের ব্যবস্থাপনার বিষয়েও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।