“আগে পুনর্বাসন, পরে উচ্ছেদ!”— রেলের নির্দেশের বিরুদ্ধে গর্জে উঠল শিলিগুড়ির হাজার হাজার মানুষ

“আগে পুনর্বাসন, পরে উচ্ছেদ!”— রেলের নির্দেশের বিরুদ্ধে গর্জে উঠল শিলিগুড়ির হাজার হাজার মানুষ

রেল কর্তৃপক্ষের একতরফা উচ্ছেদ নোটিশের পর তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে উত্তরবঙ্গের প্রধান শহর শিলিগুড়িতে। আচমকা ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় দিশেহারা হাজার হাজার মানুষ আজ নিজেদের অধিকার রক্ষায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে শহরের রাজপথে বিশাল প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হন। সাধারণ মানুষের এই আন্দোলনকে ঘিরে পুরো এলাকায় এখন প্রবল রাজনৈতিক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।

নোটিশ আসতেই বাড়ছে ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্ক শিলিগুড়ির একাধিক রেল কলোনিতে দীর্ঘদিন ধরে শত শত পরিবার বসবাস করছেন। সম্প্রতি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁদের ‘জবরদখলকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে এলাকা খালি করার জন্য আচমকা নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু বিকল্প কোনো বাসস্থান বা স্থায়ী পুনর্বাসনের পরিকল্পনা না করে এমন নির্দেশে চরম বিপাকে পড়েছে পরিবারগুলো।

প্রতিবাদ মিছিলে পা মেলানো ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা প্রশ্ন তোলেন— বছরের পর বছর ধরে এখানে বসবাস করার পর হঠাৎ উচ্ছেদ করা হলে ছোট ছোট শিশু ও পরিবার নিয়ে তাঁরা যাবেন কোথায়? খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো ছাড়া তো আর কোনো উপায় থাকবে না!

“আগে পুনর্বাসন, তবেই উচ্ছেদ” — স্পষ্ট বার্তা আন্দোলনকারীদের প্রতিবাদীদের এক কথা, সরকার কিংবা রেল প্রশাসনকে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর আগে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নিরাপদ ও আইনি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং মাথা গোঁজার জায়গা না পাওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই উচ্ছেদ অভিযান চালাতে দেওয়া হবে না। দাবি আদায় না হলে আন্দোলন আরও তীব্র থেকে তীব্রতর করার হুমকি দিয়েছেন তাঁরা।

প্রশাসন কিংবা রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান বা আশ্বাসের বার্তা মেলেনি। ফলে পরিস্থিতি থমথমে হয়ে রয়েছে। শিলিগুড়ির মানুষের এই আন্দোলন ও নায্য দাবি শেষ পর্যন্ত কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *