মোদী ৩.০ মেয়াদে বাড়ল সঙ্ঘের প্রভাব! নিট আন্দোলন ও ২০২৯ ভোটের সমীকরণে বদলে গেল বিজেপির মুখ
নরেন্দ্র মোদী সরকারের তৃতীয় দফায় সম্প্রতি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা ‘প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা’কে বেশ গুরুত্ব দিয়েই দেখছে সঙ্ঘ পরিবার। বিশেষ করে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে ‘জেন জ়ি’ (Gen Z) প্রজন্মের আন্দোলন রাজনৈতিক মহলে বেশ বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে এবং দলের ওপর নিজেদের প্রভাব স্পষ্ট করতে সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের নতুন টিমে স্থান বাড়ানো হয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) ঘনিষ্ঠ নেতাদের।
বিজেপির সদ্য ঘোষিত ৬৫ জনের জাতীয় কমিটিতে ৫১ জনই নতুন মুখ। তবে সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হলো, রাম মাধব, সুনীল বনসল, বিএল সন্তোষ, বিনোদ তাওড়ে, সতীশ পুনিয়া এবং দীপক মাস্কের মতো ৬ জন প্রভাবশালী সঙ্ঘ-ঘনিষ্ঠ নেতা দলের বড় পদ পেয়েছেন। সঙ্ঘ সূত্রের খবর, বিগত দু’মাস ধরে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে লাগাতার বৈঠকের পরই ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এই ৬ জনের নাম চূড়ান্ত করা হয়। এর ফলে দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে প্রশ্ন উঠছে, টানা এক দশক ক্ষমতায় থাকার পর বিজেপির সাংগঠনিক জমি কিছুটা দুর্বল হতে দেখেই কি সঙ্ঘ আবার শক্ত হাতে রাশ ধরতে চাইছে?
এই রদবদলে সবচেয়ে আলোচিত নাম রাম মাধব। ‘কাশ্মীর বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে পরিচিত রাম মাধব বিগত কয়েক বছর ধরে আড়ালেই ছিলেন। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরে পূর্ণ রাজ্যের দাবিতে বিরোধীদের জোটবদ্ধ হওয়া এবং ওমর আব্দুল্লার নেতৃত্বের সামনে দাঁড়িয়ে, উপত্যকায় সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতেই তাঁকে পুনরায় সামনে আনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, আগামী বছর উত্তরপ্রদেশসহ ৭টি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনীল বনসল ও বিএল সন্তোষকে রাখা হয়েছে ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ বা সংকট মেটানোর ভূমিকায়। অতীতে উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক সাফল্যে সুনীল বনসলের বিশেষ ভূমিকা ছিল। পাশাপাশি, সমাজমাধ্যমে বিরোধীদের পাল্টা জবাব দিতে আইটি সেলের ইনচার্জ অমিত মালব্যকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ছত্তিসগড়ের সঙ্ঘ-ঘনিষ্ঠ নেতা দীপক মাস্কেকে।