যাদবপুর কাণ্ডে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: চরম উত্তেজনার রাতে ফোনে অধরা উপাচার্য-রেজিস্ট্রার!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার মধ্যরাতের ভয়াবহ সংঘর্ষ ও তাণ্ডবের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সময় ১০০ ডায়ালে কল করে পড়ুয়ারা যেমন পুলিশের সাহায্য চেয়েছিলেন, তেমনই স্থানীয় থানা থেকেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, চরম মুহূর্তে উপাচার্য বা রেজিস্ট্রার কাউকেই ফোনে পাওয়া যায়নি। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির দাবি, গণ্ডগোল শুরু হতেই শিক্ষক মহলকে মধ্যস্থতার আবেদন জানানো হলেও তা থামানো যায়নি। এর প্রতিবাদে এবং বহিরাগত হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভে বসে বাম ছাত্র সংগঠনগুলি এবং সহ-উপাচার্যকে ঘেরাও করে। অন্যদিকে, হিংসার ঘটনার প্রতিবাদে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (ABVP) পক্ষ থেকেও স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠনের কথা ভাবা হচ্ছে। উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের আশ্বাস, সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ দেখে বহিরাগতদের চিহ্নিত করে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সিসিটিভি ও রক্ষী থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বহিরাগতরা ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব চালাল, তা নিয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে; হাইকোর্টে জরুরি শুনানির আবেদন জানানো হলে ডিভিশন বেঞ্চ নতুন করে আলাদা মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে ‘ফ্যাকাল্টি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন’ (FETSU)-এর সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে। সেখানে এবিভিপি এবং এসএফআই সহ অন্যান্য বামপন্থী সংগঠনের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। বৃহস্পতিবার দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ দুই পক্ষের মিছিলকেই ব্যারিকেড দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং এসএফআই সমর্থকরা ব্যারিকেড ভেঙে ক্যাম্পাসের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন। বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট ভাঙার চেষ্টা করে। সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় চরম উত্তেজনা বজায় রয়েছে।