“নিজের সন্তানের কাছেও বাবা সুরক্ষিত নয়”: হুগলিতে পিতৃহন্তক দম্পতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

“নিজের সন্তানের কাছেও বাবা সুরক্ষিত নয়”: হুগলিতে পিতৃহন্তক দম্পতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সম্পত্তির লোভে নিজের বাবাকে গলা টিপে খুন করল ছেলে, আর তাতে উসকানি দিল পুত্রবধূ। মর্মান্তিক এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বৃদ্ধা মায়ের সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই অভিযুক্ত দম্পতিকে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা শোনাল চন্দননগর আদালত।

ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ৬ জুলাই, হুগলির তারকেশ্বরের গৌরবাটি গ্রামে। ওই রাতে নিচতলার ঘরে আদিত্য কোলেকে (৬৪) গলা টিপে হত্যা করে তার ছেলে অমিত কোলে। খুনের সময় হাতে দস্তানা পরা অমিতকে সাহায্য করছিল তার স্ত্রী পূজা কোলে। পাশের ঘর থেকে চিৎকার শুনে আদিত্যবাবুর স্ত্রী সাবিত্রী দেবী বেরোনোর চেষ্টা করলে দেখেন, তাঁর ঘরটি বাইর থেকে বন্ধ। পরে নাতির সাহায্যে ঘর থেকে বেরিয়ে স্বামীর ঘরে গিয়ে তিনি পুরো দৃশ্যটি নিজের চোখে দেখেন। অভিযোগ, এরপর পুত্রবধূর প্ররোচনায় অমিত নিজের মাকেও মারতে উদ্যত হলে সাবিত্রী দেবী কোনওরকমে পালিয়ে প্রাণ বাঁচান এবং দেওরের বাড়িতে আশ্রয় নেন।

পরদিনই ছেলে ও বৌমার বিরুদ্ধে তারকেশ্বর থানায় লিখিত অভিযোগ জানান সাবিত্রী দেবী। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ মাত্র দুই মাসের মধ্যে চার্জশিট পেশ করে। চন্দননগর আদালতে বিচারাধীন এই মামলায় মোট ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়, যার মধ্যে নিহতের স্ত্রী সাবিত্রী দেবীর প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে দেওয়া বক্তব্য ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় ঘটনাটিকে “মানবতার লজ্জা” হিসেবে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। চন্দননগর আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক মানবেন্দ্র মোহন সরকার আসামীদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে অমিত ও পূজাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *