বীরভূমে চরম নাটকীয় মোড়, অনুব্রত রাজনীতির চাপে পদ ছাড়লেন কাজল শেখ?

বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ থেকে ফয়জুল হক ওরফে কাজল শেখের পদত্যাগপত্র অবশেষে গ্রহণ করল প্রশাসন। বর্ধমান ডিভিশনের ডিভিশনাল কমিশনারের নির্দেশে ২০ আগস্ট থেকেই তাঁর এই ইস্তফা অবিলম্বে কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে। যদিও কাজল শেখ প্রশাসনের কাছে দাবি করেছেন যে, তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে এবং কোনো প্রকার বাহ্যিক চাপ ছাড়াই স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তবুও ইস্তফাপত্র কার্যকর হওয়ার পর আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে জেলা পরিষদের সমস্ত নথি ও সম্পত্তি দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী আধিকারিকের কাছে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।
তবে প্রশাসনিকভাবে কারণটিকে ‘ব্যক্তিগত’ বলা হলেও কাজল শেখের এই হঠাৎ সরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে বীরভূমের গভীর রাজনৈতিক টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনুব্রত মণ্ডল সমর্থিত ১৯ জন জেলা পরিষদ সদস্যের অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করার পরেই তাঁর পদত্যাগ ঘিরে জোর জল্পনা শুরু হয়। তৃণমূল থেকে বেরিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে যোগ দিয়ে হাসন কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হওয়ার পরও অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর পুরনো সংঘাত পিছু ছাড়েনি। ফলস্বরূপ, দলবদল করেও অনুব্রত গোষ্ঠীর প্রবল রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েই কাজল শেখকে সভাধিপতির আসন ছাড়তে হলো কি না, তা নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতি উত্তাল।