স্মার্টফোনের দিন শেষ? জিওর হাই-স্পিড নেটে এবার আসছে সস্তার ‘AI স্মার্ট গ্লাস’!

স্মার্টফোনের দিন শেষ? জিওর হাই-স্পিড নেটে এবার আসছে সস্তার ‘AI স্মার্ট গ্লাস’!

স্মার্টফোনের পর এবার কি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সঙ্গী হতে চলেছে AI স্মার্ট গ্লাস? প্রযুক্তি বিশ্বে এই জল্পনা এখন তুঙ্গে। সূত্রের খবর, ভারতীয় গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে সাশ্রয়ী দামে AI স্মার্ট গ্লাস আনার জোর প্রস্তুতি চলছে। দামি অগমেন্টেড রিয়্যালিটি (AR) গ্লাসের মতো এটি শুধু প্রযুক্তিপ্রেমীদের বিলাসবহুল খেলনা হবে না, বরং সাধারণ মধ্যবিত্তের হাতের নাগালেই নিয়ে আসাই এর মূল লক্ষ্য।

এই স্মার্ট গ্লাসের সাহায্যে হাত ব্যবহার না করেই গান শোনা, ফোনের সঙ্গে কানেক্ট করে কাজ করা, রিয়েল-টাইম ভাষা অনুবাদ এবং AI-ভিত্তিক নানাবিধ পরিষেবা নেওয়া সম্ভব হবে। আর এই অভিনব ডিভাইসকে সচল রাখতে অন্যতম বড় চালিকাশক্তি হতে চলেছে ভারতের শক্তিশালী ও সুলভ ডিজিটাল নেটওয়ার্ক।

জিওর ১০ বছরের যাত্রা ও AI গ্লাসের সংযোগ গত এক দশকে ভারতে সস্তা ইন্টারনেট ও দ্রুতগতির মোবাইল নেটওয়ার্ক সাধারণ মানুষের প্রযুক্তি ব্যবহারের ধরণ বদলে দিয়েছে। আর এই পরিবর্তনের নেপথ্যে মূল রূপকার ছিল ২০১৬ সালে জিওর আগমন।

জিও আসার আগে ভারতে ডেটা ব্যবহার ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল—প্রতি জিবি প্রায় ২৫০ টাকা! ফলে ইন্টারনেট ব্যবহার তখন বিলাসিতার নামান্তর ছিল। কিন্তু জিওর আগমনে সেই ছবির আমূল পরিবর্তন ঘটে। ৪জি থেকে ৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং লেটেন্সি কমানোর ফলে ইন্টারনেট শুধু সামাজিক মাধ্যমে সীমাবদ্ধ থাকেনি; ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন গেমিং, ক্লাউড ও AI সার্ভিসের বিস্তার ঘটেছে দ্রুত গতিতে।

৫০ কোটির বেশি গ্রাহক, মাসে ৪০ GB ডেটা! জিওর ১০ বছরের যাত্রা শেষে বর্তমানে তাদের গ্রাহক সংখ্যা ৫০ কোটি ছাড়িয়েছে। বর্তমানে গড়ে একজন ব্যবহারকারী প্রতি মাসে ৪০ GB-র বেশি ডেটা খরচ করছেন। যে দেশে ১০ বছর আগে ১ GB কেনাই কঠিন ছিল, সেখানে এই বিপুল ডেটা ব্যবহারের অবকাঠামোই আগামী দিনের নতুন সব ডিভাইসের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

স্মার্টফোনের বিকল্প এবার স্মার্ট গ্লাস? বিশ্বের বড় প্রযুক্তি সংস্থা যেমন মেটা (Ray-Ban Smart Glasses) ইতিমধ্যেই এই বাজারে নেমেছে। তবে দাম বেশি হওয়ায় তা সর্বজনীন হয়নি। ভারতের আসন্ন সাশ্রয়ী AI স্মার্ট গ্লাস সেই ব্যবধান মেটাতে চায়। চোখের চশমাতেই থাকবে ক্যামেরা, অডিও ও AI ফিচার—ফলে পকেট থেকে বারবার ফোন বের করার প্রয়োজনই পড়বে না।

ভাষাগত বৈচিত্র্যের ভারতে এই চশমার ‘রিয়েল-টাইম ট্রান্সলেশন’ বা তাত্ক্ষণিক অনুবাদ প্রযুক্তি বিপ্লব ঘটাতে পারে। একজন বাংলাভাষী মানুষ সহজেই অন্য কোনো ভাষার মানুষের সাথে অনায়াসে কথা বলতে পারবেন।

ভবিষ্যতের প্রযুক্তি আর কেবল ল্যাপটপ বা ফোনের স্ক্রিনে আটকে থাকবে না। চশমা বা পরিধানযোগ্য গ্যাজেটের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ হবে সবকিছু। এক দশক আগে যে বিপ্লবের শুরু হয়েছিল সস্তা মোবাইল ডেটা দিয়ে, আগামী দশকে সাশ্রয়ী AI ডিভাইস হতে চলেছে তার পরবর্তী অধ্যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *