নিউ মার্কেট অগ্নিকাণ্ড: শিখা ইন-এর আগুনে ছাই ঢাকা দুর্নীতির পর্দাফাঁস, সরগরম শহরের ‘অন্ধকার জগৎ’

নিউ মার্কেট অগ্নিকাণ্ড: শিখা ইন-এর আগুনে ছাই ঢাকা দুর্নীতির পর্দাফাঁস, সরগরম শহরের ‘অন্ধকার জগৎ’

কলকাতা: দিনের আলোয় নিউ মার্কেট চত্বরের চেনা ব্যস্ততা—বাসের কন্ডাকটরের হাঁকডাক, ট্যাক্সির হর্ন, আর মুটেদের কর্মব্যস্ততা। কিন্তু মাত্র কয়েক পা এগোলেই মির্জা গালিব স্ট্রিরেট এখন শ্মশানের মতো নিস্তব্ধ। গত বুধবার রাতে ‘শিখা ইন’ হোটেলে আগুনে পুড়ে ৯টি তাজা প্রাণ নিভে যাওয়ার পর পুরো এলাকা থমথম করছে। তবে এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির আড়ালেই বেরিয়ে এসেছে বহুদিনের আড়াল করে রাখা এক বেআইনি ও দুর্নীতিগ্রস্ত অন্ধকার জগৎ।

জতুগৃহসম হোটেল ও ঘুসের কারবার: নিউ মার্কেট ও ফ্রি-স্কুল স্ট্রিট ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে বেআইনি নির্মাণ, ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স, এবং নিয়মবহির্ভূত সিইএসসি (CESC) সংযোগের কারবার। জলের দরে মিলছে হোটেল। তদন্তে দেখা যাচ্ছে, ঘিঞ্জি গলির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা এসব হোটেল আসলে একেকটি জীবন্ত জতুগৃহ। অভিযোগ, দমকল সদর দপ্তরের অদূরেই সক্রিয় ছিল এক দালাল চক্র। বছরে বছরে ফায়ার লাইসেন্স ‘রিনিউ’ করার নামে টেবিলের নিচ দিয়ে লাখ লাখ টাকার লেনদেন চলত। পুলিশ, পুরসভা, দমকল এবং সিইএসসির দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের একাংশের পরোক্ষ মদতেই যে এই চক্র রমরমিয়ে চলছে, তা স্টিফেন কোর্ট বা বড়বাজারের পর আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।

বাংলাদেশি সংযোগ ও বেআইনি হাওয়ালা চক্র: দুর্ঘটনায় মৃত ৯ জনের মধ্যে ৭ জনই বাংলাদেশি নাগরিক। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, নিউ মার্কেট অঞ্চলে বাংলাদেশি নাগরিকদের এত যাতায়াত কেন? স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকা জুড়ে ছোট ছোট কিছু কাউন্টারের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে বাংলাদেশি টাকা ভাঙানো হতো। সরকারের চোখ এড়িয়ে সেই টাকা পৌঁছাত হাওয়ালা কারবারিদের হাতে। শিখা ইন-এর এই অগ্নিকাণ্ড যেন সেই অন্ধকার কারবারের ওপর আলো ফেলে দিয়ে গেল।

প্রশাসনের পদক্ষেপ ও ফায়ার অডিট: ঘটনার ভয়াবহতায় নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন। পুরসভা ও প্রশাসনের গাফিলতির তদন্ত শুরু হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আগামী ২৫ আগস্ট থেকে কলকাতার ১৬টি বরোর অধীনে থাকা সমস্ত বাণিজ্যিক বহুতল, শপিং মার্কেট, হোটেল ও জনবহুল স্থানগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করতে বিশেষ বিশেষজ্ঞ টিম নামানো হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *